- শরিফুল ইসলাম শরীফ
যেখানে প্রতিদিন চলত পণ্যবাহী ট্রাক, মানুষের অবিরাম আনাগোনা, আর সীমান্তজুড়ে গড়ে উঠেছিল জীবিকার অসংখ্য গল্প। ১৯৯৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করা এই বন্দর ছিল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। শুঁটকি, কাঠ, চাল, ডাল, মশলার আমদানি এবং আলু, পোশাক ও প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানিতে সবসময় মুখর থাকত সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ।
কিন্তু সময় বদলেছে… মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই বন্দর পড়ে ছিল নিস্তব্ধ। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আমদানি-রপ্তানির চাকা, থমকে গিয়েছিল হাজারো মানুষের জীবিকা ও স্বপ্ন। এই বন্দরের ঠিক বিপরীতে রয়েছে মিয়ানমারের মংডু স্থল বন্দর—যা একসময় দুই দেশের বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করত।

তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, আজ নতুন আশার বার্তা… টেকনাফ স্থল বন্দরে পরিদর্শনে এসে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব হাসান ঘোষণা দিয়েছেন— “আজ থেকেই সচল হচ্ছে টেকনাফ স্থল বন্দর।” এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সীমান্ত এলাকায় আবারও ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য, জেগেছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।
আর এই বাস্তবায়নের পেছনে রয়েছে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ও দ্রুত উদ্যোগের গল্প। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ১০০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবেন, কিন্তু বাস্তবায়ন করলেন মাত্র ২৪ দিনে—উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী-এর কার্যকর উদ্যোগে সচল হলো টেকনাফ স্থল বন্দর।
এই অর্জন শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়— এটি সীমান্তবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ, কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা, আর একটি অঞ্চলের অর্থনীতিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার শক্তিশালী সূচনা। আর এই পুনরায় সচলতা এখন সীমান্তবাসীর মনে জাগাচ্ছে নতুন আশা— কর্মসংস্থান, বাণিজ্য ও জীবিকার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা।


