নোয়াখালী সংবাদদাতা
নোয়াখালীর চৌমুহনী হকার্স মার্কেটে “এরাবিয়ান টেইলার্স এন্ড শাড়ী বিতান”-এর মালিক হাজী মোঃ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের দোকান ভাড়া বকেয়া ও তা কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ হাতাহাতিতে রূপ নেয় বলে দুই পক্ষই দাবি করেছে।
দোকানের মালিক হাজী মোঃ আবুল হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ নভেম্বর পর্যন্ত হকার্স মার্কেটের ৫৬৬ নম্বর কক্ষটি (বর্তমান নাম “শাহী বিরিয়ানী হাউজ এন্ড রেস্টুরেন্ট”) আমির হোসেনের নিকট ভাড়া দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী শর্তগুলো ছিল—দুই বছরের জন্য দোকান ভাড়া। অগ্রিম ১ লাখ টাকা প্রদান। মাসিক ভাড়া ২২ হাজার টাকা। প্রতি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ বাধ্যতামূলক।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রথম ৯ মাস নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করা হলেও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দেন। বারবার অনুরোধ ও যোগাযোগের পরও তারা ভাড়া দেননি।
আবুল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৪ মে বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক পৌনে পাঁচটার দিকে তিনি বকেয়া ভাড়া আদায়ের জন্য দোকানে গেলে ভাড়াটিয়া পক্ষের রফিকুল ইসলাম রনির সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।
তিনি দাবি করেন, আলোচনার একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম রনি তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা দোকানের সিসি ক্যামেরায় ধারণ হয়।
তার অভিযোগ, পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজের শব্দ (সাউন্ড) বন্ধ করে রনি অন্যের প্ররোচনায় ঘটনাটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে মারধরকারী হিসেবে দেখানো হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও বলেন, “ভাড়া চাইতে গিয়ে আমার ওপর দোষ চাপানো হয়েছে এবং আমার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
অন্যদিকে ভাড়াটিয়া আমির হোসেন দাবি করেন, তিনি দোকান নেওয়ার পর থেকে নিয়মিতভাবে ভাড়া পরিশোধ করে আসছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেচাকেনা ঠিকমতো না হওয়ায় গত কয়েক মাসের ভাড়া বকেয়া পড়ে যায়।
তিনি জানান, বিষয়টি তিনি মালিককে জানিয়ে ঈদের আগে একসঙ্গে ভাড়া পরিশোধের আশ্বাস দেন। তবে ঘটনার সময় তিনি দোকানে উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেন, ফলে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কারণে ঘটনাটি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
দোকান ভাড়া সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ শেষ পর্যন্ত হাতাহাতির ঘটনায় রূপ নেয় এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচারের কারণে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।


