নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলফামারী অভিমুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি বগুড়ার আদমদীঘিতে লাইনচ্যুত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার শান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।
ওই ঘটনার পর উত্তরবঙ্গের ৫ জেলা– নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আহত ব্যক্তিদের নওগাঁ জেলা হাসপাতাল ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বগুড়ার সান্তাহার রেলস্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন, রেললাইনে আগে থেকেই ত্রুটি ছিল। আন্তনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস বেলা আড়াইটার দিকে সান্তাহার প্ল্যাটফর্মের অদূরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ট্টেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে।
খাদিজা খাতুন জানান, এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। উদ্ধারকারী ট্রেন গতকাল বিকেল ৫ টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। উদ্ধারকাজ কতক্ষণ নাগাদ চলবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান বলেন, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে এসে বেলা ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশনে বিরতি করে। সান্তাহার স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কিছুসময় পরেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। ট্রেনের ছাদে অনেক মানুষ থাকায় ছাদ থেকে পড়ে অনেকে আহত হয়েছেন। বগিগুলো উদ্ধারের জন্য কাজ চলছে।
এদিকে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রেললাইনের ত্রুটির কারণে লাইনম্যান বিপদসংকেত দিলেও ট্রেনচালক তা খেয়াল করেননি বা উপেক্ষা করেছেন। তাদের মতে, এ কারণেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক রেজাউল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৪৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আহতরা নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আহতদের নওগাঁ জেলা হাসপাতাল ও আদমদীঘী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নওগাঁ সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. আবুজার গাফফার জানান, তার হাসপাতালে প্রায় ৮০ জন আহত চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তদন্তে কমিটিএ ঘটনায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন- রেলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা, পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান প্রকৌশলী এবং চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহাব্যবস্থাপক আরও জানান, তিনি নিজেসহ পশ্চিমাঞ্চল রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে রেললাইন সচল করার চেষ্টা চলছে।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।


