আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
পাঙ্গাস, তেলাপিয়া ও কৈ মাছ উৎপাদনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘জাতীয় মৎস্য পদক—২০২৬’ পেয়েছেন জিএম অ্যাকোয়া কালচার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী এবং বগুড়া—৩ (আদমদীঘি—দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার। আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়াম মাঠে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে দেশের মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখায় ১৩টি ক্যাটাগরিতে মোট ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘জাতীয় মৎস্য পদক’ প্রদান করা হয়।
আব্দুল মহিত তালুকদার ১৯৯৬ সালে আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের কালাইকুড়ি গ্রামে জিএম অ্যাকোয়া কালচার লিমিটেড নামে মৎস্য খামার প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে প্রায় ৫০ একর জলাশয়জুড়ে ২৬টি বড় পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করছেন। খামারটিতে পাঙ্গাস, তেলাপিয়া ও কৈ মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়। বৃহৎ এ মৎস্য খামারে প্রতিদিন প্রায় আট মেট্রিক টন মাছের খাদ্যের প্রয়োজন হয়। নিজস্ব খামারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যচাষিদের মানসম্মত খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জিএম ফিডমিলস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটিতে উৎপাদিত মাছের খাদ্য নিজস্ব খামারে ব্যবহারের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মৎস্যচাষিদের কাছেও সরবরাহ করছেন।
আব্দুল মহিত তালুকদার আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে গত ২৪ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির পাশাপাশি দীর্ঘ তিন দশক ধরে মৎস্য খাতে উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর কর্মকাণ্ড স্থানীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মৎস্য উৎপাদনে ভূমিকা রেখে আসছে।
বগুড়া জেলা যুবদলের সদস্য ও সংসদ সদস্যের ছেলে মিজানুর রহমান জিকো বলেন,‘তিনি শুধু একজন ভালো বাবা কিংবা সফল রাজনীতিবিদ নন, একজন সফল উদ্যোক্তাও। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে মৎস্য খাতে তাঁর যে ‘শ্রম, উদ্যোগ ও নিষ্ঠা’ জাতীয় পর্যায়ের এই স্বীকৃতি তারই ফল। এই অর্জন আব্দুল মহিত তালুকদারের সাথে সাথে জিএম অ্যাকোয়া পরিবারের প্রতিটি সদস্য ও কর্মকর্তা—কর্মচারীরও। যাঁরা দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রতিষ্ঠানটিকে আজকের এ অবস্থানে নিয়ে এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই। এই জাতীয় সম্মান আমাদের পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আদমদীঘি—দুপচাঁচিয়া তথা বগুড়াবাসীর জন্যও অত্যন্ত গর্বের।’
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সফল মৎস্যচাষ ও মৎস্য ব্যবসায় বিশেষ অবদানের জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও তিনি পুরস্কৃত হয়েছিলেন। এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘জাতীয় মৎস্য পদক’ গ্রহণ তাঁর দীর্ঘদিনের কাজকে আরও বড় পরিসরে স্বীকৃতি দিল।


