শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, মানবিক সেবা, সামাজিক উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ৫নং মির্জাপুর ইউনিয়নে নুরে মাদিনা হাফেজিয়া কওমি মাদরাসা ও লিল্লাহ বোডিংয়ের উদ্যোগে ২ হাজার তালবীজ রোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
সাগরপুর জিরো পয়েন্ট-ব্র্যাক বটতলা এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৫নং মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ জাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ সাইদুজ্জামান হিমু।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর উপজেলা এলজিআরডি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আঃ মজিদ এবং উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ শেরপুর উপজেলা সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী সংসদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং তালগাছের বিস্তারের লক্ষ্যে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। স্থানীয় পর্যায়ে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরে তালবীজ রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও অনুকরণীয় উদ্যোগ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ সাইদুজ্জামান হিমু নুরে মাদিনা হাফেজিয়া কওমি মাদরাসার এ ধরনের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন শিক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা, মানবিক সহায়তা, সামাজিক কল্যাণ এবং কর্মমুখী দক্ষতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তিনি এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে মাদরাসার পরিচালক বলেন, “আমরা শুধু ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে আমাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। পরিবেশ রক্ষা, মানবিক সেবা, সামাজিক দায়িত্ব পালন এবং বেকারত্ব কমাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি জানান, দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে ইতোমধ্যে ৩০টি টিউবওয়েল স্থাপন, অসহায় পরিবারের জন্য দুটি ঘরের ব্যবস্থা, শীতের সময়ে শীতবস্ত্র বিতরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা এবং রক্তদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
পাশাপাশি বেকার হাফেজ ও আলেমদের কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ি চালনা, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, ইলেকট্রিশিয়ান এবং গার্মেন্টস অপারেটিংসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মানুষের কল্যাণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা প্রয়োজন। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই পরিবেশ রক্ষা থেকে শুরু করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বেকার যুবকদের দক্ষ করে গড়ে তোলার মতো বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে একসঙ্গে ২ হাজার তালবীজ রোপণের কর্মসূচি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। একই সঙ্গে মানবিক সেবা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের কার্যক্রমগুলোও স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে পরিবেশ সংরক্ষণ, মানবিক সেবা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


