জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটে বিদ্যুতের লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনে-রাতে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে গ্রাহকদের অসন্তোষের ঘটনায় পাঁচবিবি উপজেলার শ্রীমন্তপুরে জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক মিটার রিডারকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গত ১০ আগস্ট জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক এ চিঠি দেন। এতে জেলার পাঁচটি উপজেলার ১০টি উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ করা হয়েছে।
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৭২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ২৬ থেকে ২৮ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকেরও কম হওয়ায় বাধ্য হয়ে দিনে ও রাতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
শ্রীমন্তপুরে মিটার রিডারকে মারধরের ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানান, লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এ অবস্থায় মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গ্রাহক মাহমুদা বেগম বলেন, ‘এমনিতেই বিদ্যুৎ থাকে না। তারপর বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে। আগে আমার ১৮০ টাকা বিল আসত, এখন সাড়ে তিন শ টাকা বিল আসছে। আমার বাড়িতে টিভি, ফ্রিজ কিছুই নেই। শুধু বাল্ব ও দুটি ফ্যান চলে। গরিব মানুষ এত বেশি বিল এলে কীভাবে চলবে?’
আরেক গ্রাহক আবদুস সামাদ বলেন, ‘দিন-রাতে অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। রাতে যখনই ঘুমাতে যাই, বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমে ঘুমাতে পারি না। অথচ বিদ্যুৎ বিল কম আসছে না।’
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ডিসি ও এসপিকে চিঠি দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ অর্ধেকেরও কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এ সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া কঠিন।


