জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
বৈশ্বিক মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে জয়পুরহাটে ৬০টি পরিবারের মাঝে গরু বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এসডিএস এনজিওর প্রধান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগীদের হাতে গরু তুলে দেওয়া হয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের অর্থায়নে এবং এসডিএস এনজিওর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ‘আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় এসব গরু বিতরণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রান্তিক কৃষক, প্রতিবন্ধী, সুবিধাবঞ্চিত, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুবিধাভোগীদের হাতে গরু তুলে দেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান।
মাসুদ রানা প্রধান বলেন, “নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই তাঁদের গরু দেওয়া হচ্ছে। এই গরু লালন-পালনের মাধ্যমে তাঁরা যেমন আয় করতে পারবেন, তেমনি পরিবারের আমিষের চাহিদাও পূরণ হবে। বৈশ্বিক মহামারিতে মানুষ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এই সহযোগিতার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আবারও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।”
তিনি আরও বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর যোগ্যতা অনুযায়ী পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবে। ভবিষ্যতে এই অর্থের পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।”
এসডিএসের নির্বাহী পরিচালক আয়েশা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, জেলা ট্রেনিং অফিসার ডা. এস এম খুরশীদ আলম এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহাদাত হোসেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মনজুরে মওলা পলাশ, এসডিএসের সহকারী পরিচালক আঞ্জুমান আফরোজ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান লিটন, সভানেত্রী গোলশান আরা গ্যালিনসহ এসডিএসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপকারভোগীরা।
আয়োজকেরা জানান, বৈশ্বিক মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং বিশেষ করে নারীদের স্বাবলম্বী করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে উপকারভোগীদের পরিবারের আয় বাড়বে। পাশাপাশি গরুর দুধের মাধ্যমে পরিবারের আমিষের চাহিদাও পূরণ হবে।
গরু পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, এই সহায়তা তাঁদের পরিবারের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


