জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাইয়ে উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা ও নিয়মিত নজরদারির কারণে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগের পর উপজেলার বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে নিয়মিত তদারকি করছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। এতে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে কৃষকদের মধ্যে।
গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে গিয়ে রেজিস্টার, ক্যাশ মেমো ও গুদামঘর যাচাইসহ সার বিক্রির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে মাত্রাই ইউনিয়নের বিভিন্ন ডিলার পয়েন্ট পরিদর্শন করে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির বিষয়ে ডিলারদের সতর্ক করা হয়।
আজ বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলার বৈরাগী বাজারে বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স ওমর রাইচ এন্ড আটা মিলস এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় পুনট বাসস্ট্যান্ডের বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স কালাই রাইচ মিলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে ক্যাশ মেমো।
উপজেলার তেলিহার গ্রামের কৃষক সাদেকুল বলেন, “আজ ডিলারের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে মেমোসহ সার পেয়েছি। আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল চাষে সারের প্রয়োজন রয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। তবে বিভিন্ন সময় অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম।”
পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক জাকারিয়া বলেন, “বৈরাগী বাজারের মেসার্স ওমর রাইচ এন্ড আটা মিলস থেকে চার বস্তা সার নিয়েছি। ন্যায্য দামে মেমোসহ সার দিয়েছে। এভাবে মেমোসহ সার বিক্রি হলে স্বচ্ছতা থাকবে এবং কেউ অতিরিক্ত দাম নিতে পারবে না।”
পুনট ইউনিয়নের নান্দাইলদিঘী লকইর গ্রামের কৃষক বকুল বলেন, “আমি ১৫ থেকে ২০ বিঘা জমি চাষ করি। আজ পুনটের সার ডিলার মেসার্স কালাই রাইচ মিল থেকে চার বস্তা ইউরিয়া ও এক বস্তা টিএসপি নিয়েছি। ন্যায্য মূল্যে মেমোসহ সার পেয়েছি। আমি কখনো বেশি দামে সার কিনিনি।”
বিসিআইসির ডিলার হুমায়ুন কবির তালুকদার বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি বিক্রির বিপরীতে দেওয়া হচ্ছে মেমো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনূর রশিদ বলেন, “কৃষকদের স্বার্থে আমরা প্রায় প্রতিদিনই মাঠ পর্যায়ে ইউএনও মহোদয়সহ সারের ডিলার পয়েন্টগুলো মনিটরিং করছি, যাতে কোনো ডিলার অতিরিক্ত দাম নিতে না পারে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষি উপসহকারীদের পাশাপাশি ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত ডিলার পয়েন্টগুলো তদারকি করছেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, “কৃষকদের স্বার্থে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। কেউ অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করলে কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কালাই উপজেলায় বিসিআইসির ১১ ও বিএডিসির ২৫ জনসহ মোট ৩৬ জন সার ডিলারের মাধ্যমে সার বিক্রি করা হয়।


