ডেস্ক রিপোর্টঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর ও বদলগাছী) আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয়তবাদী কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুল। নির্বাচনে কমিশনে মনোনয়নের সঙ্গে তাঁর জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিভিন্ন খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে হলফনামায় তিনি তাঁর বাৎসরিক ব্যয় উল্লেখ করেছেন ৫১ লাখ টাকা।
ফজলে হুদার হাতে এখন রয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ ১১ হাজার ২৯৮ টাকা। ঋণ রয়েছে ৬ কোটি ২৫ লাখ ৮ হাজার ৮১৭ টাকা।
আয়ের বিবরণীতে দেখা যায়, বাড়ি/বাণিজ্যিক স্থান ভাড়া থেকে আয় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। চাকরি থেকে আয় ৩২ লাখ ১০ হাজার টাকা। এছাড়া শেয়ার, বন্ড/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৩ হাজার ৫৫১ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর বার্ষিক আয় ৩৪ হাজার ৮৩ হাজার ৫৫১ টাকা।
ফজলে হুদার স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৪ কোটি ৫২ লাখ ৬৯ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, শেয়ারে বিনিয়োগসহ মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪১ হাজার ৪৮৬ টাকা। আর কৃষি ও অকৃষিজমি, বাড়ি মিলিয়ে স্থাবর সম্পত্তির (অর্জনকালীন) মূল্য ২ কোটি ৮৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৩ টাকা। এই বাইরে তাঁর স্ত্রীর নামে ঢাকার সভার আশুলিয়ায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যমানের ৩ কাঠা প্লট রয়েছে।
অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে দেখা যায়, ফজলে হুদার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ ১১ হাজার ২৯৮ টাকা। তাঁর নামে থাকা চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে ৯৩ হাজার ৪৮৮ টাকা। তাঁর নামে থাকা একটি মোটরযানের মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে, ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭০০ টাকা মূল্যমানের বিভিন্ন আসবাবপত্রের কথা করা হয়েছে হলফনামায়।
দাখিল করা হলফনামায় স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ফজলে হুদার নামে ১৮৩ দশমিক ৫ শতক (প্রায় সাড়ে ৫ বিঘা) কৃষি জমি রয়েছে। যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে, ৪৪ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৩ টাকা। এছাড়া ৬ দশমিক ৮ শতক অকৃষি জমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মূল্য ২৪ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫০ টাকা। এছাড়া একটি জমি কেনার জন্য ৩৫ লাখ অগ্রিম দিয়েছেন বলে তিনি তাঁর হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
ফজলে হুদা বাবুল এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হলফনামা অনুযায়ী ফজলে হুদার বয়স ৫২ বছর। শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স অব কমার্স।
হলফনামায় ফজলে দুটি মামলার কথা উল্লেখ করছেন। এর মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া ২০২২ সালে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের হওয়া অপর একটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। রাজনৈতিক কারণে হয়রানি করার জন্য এসব মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে দাবি ফজলে হুদার।
ফজলে হুদা রাজনীতির পাশপাশি আকিজ গ্রুপ অব কোম্পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আকিজ লজিসটিকস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


