ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁর ছয়টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ৪১ জনের মধ্যে ৩৩ জনের মনোনয়ন মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব আসনে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
রোববার সকাল ১০টা থেকে নওগাঁ জেলার ছয়টি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত ছয়টি আসনের মনোনয়নপত্র বৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নওগাঁর ছয়টি আসনে মনোনয়নপত্র বিতরণ হয়েছিল ৫৩টি। এর মধ্যে ৪১টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছিল, যেগুলো আজকে আমরা যাচাই-বাছাই করেছি। সেখান থেকে ৩৩টি মনোনয়ন বৈধ হিসেবে গ্রহণ করেছি; বাতিল হয়েছে মোট ৮টি। ‘
যাচাই-বাছাইয়ে নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-১ আসনে আটজনের মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম মনোনয়নপত্রের সাথে নিজ রাজনৈতিক দলের স্বপক্ষে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা না দেওয়ায় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া সাবেক যুবদল নেতা মাহমুদুস সালেহীন ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহরাব হোসেনের ১ শতাংশ সমর্থনসূচক তালিকায় গড়মিল পাওয়ায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
নওগাঁ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থীর মোস্তাফিজুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল হক শাহ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আকবর আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী।
জেলার পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ছয়জনরই মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এনামুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হুমায়ন কবির চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ও এবি পার্টির প্রার্থী মতিবুল ইসলাম।
মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৩ আসনে আটজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক যুবদল নেতা ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার প্রয়াত আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া এই আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
নওগাঁ-৩ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা, বাসদের প্রার্থী কালিপদ সরকার, বিএনএফ এর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নাছির বিন আছগর।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে দুইজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তাঁরা দুইজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম ও আব্দুস সামাদ প্রামাণিকের স্বপক্ষে ১ শতাংশ সমর্থনসূচক ভোটার তালিকায় গড়মিল পাওয়ায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
নওগাঁ-৪ আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থী ইকরামুল বারী টিপু, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাকিব, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলতাফ হোসেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সোহরাব হোসাইন, সিপিবির প্রার্থী ডা: এস এম ফজলুর রহমানের।
নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর) আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ওই প্রার্থী হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নজমুল হক। তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেও তার স্বপক্ষে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা না দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহিদুল ইসলামসহ অন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ।
নওগাঁ-৫ আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আ স ম সায়েম, সিপিবির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুর রহমান, এবি পার্টির কাজী আতিকুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন।
রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৬ আসনে পাঁচজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তাঁদের সবার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খবিরুল ইসলাম, ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান রতন মোল্লা। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


