নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
উত্তরের হিমেল হাওয়া ও কনকনে ঠান্ডায় বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রান্তিক জনপদে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস চরমে উঠেছে।
প্রচন্ড শীত ও কনকনে ঠান্ডা মোকাবেলায় বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ। ভোর হবার পর নেহাত প্রয়োজন ছাড়া কেহই যখন ঘরের বাহির হচ্ছেননা তখন এমন উদ্ভুত পরিস্থিতিতেই বিদ্যালয়ের পথে হাটতে হচ্ছে প্রাথমিকের শিশুদের।
প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশা ভেদ করে সকাল নয়টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হচ্ছে তাদের। বলতে গেলে এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা অসহায় প্রাথমিকের কচি কচি শিশুরা।
ঘড়িতে তখন সময় প্রায় বেলা দশটা। সূেের্য্যর দেখা নেই। বইছে উত্তরের কনকনে হিমেল হাওয়া। নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ইকরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণি কক্ষে রয়েছ শিশুরা।
শ্রেণি শিক্ষক শীলা রাণীর অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেনিতে ঢুকে চোখে পড়ে বেঞ্চে বস প্রচন্ড শীতে কাপছে শিশুরা। বিদ্যালয়টি উত্তর মূখি হওয়ায় দরজা জানালা বন্ধ থাকা সত্বেও উপরের ফাঁকা ভেন্টিলেশন দিয়ে হু হু করে ঢুকছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। এমন পরিস্থিতিতেই পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষক। চোখে পড়ে অনেক শিশুর শীত মোকাবেলার প্রয়োজনীয় পোষাক না থাকায় ঠক্ ঠক্ করে কাঁপছে তারা।
২য় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী নুসরাত তখন ব্লাকবোর্ডে লিখা এবিসি পড়ছে। সবগুলোই সঠিক উচ্চারনে পড়তে পারায় সহপাঠীরা হাততালি দিচ্ছে অভিনন্দিত করছে তাকে। ওই শ্রেণির দিপিকা, জিহাদ, নিরব জানায়, মাঠ পেরিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে খুব ঠান্ডা লেগেছে তাদের। শ্রেণিকক্ষেও ঢুকছে বাতাস তাই ঠন্ডা নিবারণ হচ্ছেনা কিছুতেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমন চিত্র উপজেলার প্রায় সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়েই। উত্তরের হিমেল হাওয়া ও কনকনে ঠান্ডায় শ্রেণিকক্ষে কাঁপছে শিশুরা।
শ্রেণি শিক্ষক শীলা রাণী জানান, কয়েকদিন থেকে ঠান্ডা অনুভুত হলেও আজকে হঠাৎ করেই প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভুত হচ্ছে। তাই শিশুদের পাঠদানের মধ্যেই হাততালিসহ বিভিন্নভাবে সক্রিয় রাখা হচ্ছে। যাতে করে শীত কিছুটা কম অনুভুত হয় ও শরীর গরম থাকে।
প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম জানান, ১ জানুয়ারী বই পেয়েছে শিশুরা।
শ্রেণিপাঠদানও শুরু হয়েছে বিদ্যালয়ে। নতুন বই নতুন শ্রেণি তাই শিশুরা আগ্রহ নিয়েই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছে। উত্তরের বাতাস থাকায় আজকে ঠান্ডা অনেকটাই বেশী। এরপরও বিদ্যালয়ে সকল শ্রেণিতেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশ ভাল।
এমন কনকনে ঠান্ডায় এলাকার সচেতন অভিভাবকরা মনে করছেন, এমন ঠান্ড অব্যাহ থাকলে শিশুরা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এমন পরিস্থিতিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ স্থানীয়ভাবে বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতির সময়ের দিকটি বিবেচনায় আনতে পারেন।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাক্তার ফয়সল নাহিদ পবিত্র বলেন, এখন পর্যন্ত শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আজকে (সোমবার) যে মাত্রায় ঠান্ডা অনুভুত হয়েছে এতে করে শিশুদের শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার প্রভাব হয়তো কয়েকদিন দিন পর বোঝা যেতে পারে। তিনি জানান, এমন ঠান্ডা চলতে থাকলে সর্দি-কাশি, ডায়েরিয়া, শ্বাস জনিত রোগ, নিমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে।
নওগাঁর বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত কৃষি আবহাওয়া অফিসে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে জানান, আজ (সোমবার) সকাল ৯টা পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০.৭ এবং দুপুর ৩টায় ১৪,০ ডিগ্রী। # ০৫.০১.২০২৬ ইং


