মান্দা(নওগাঁ)প্রতিনিধি:
সময়ের স্রোতে যখন পারিবারিক বন্ধন ক্রমেই শিথিল হয়ে পড়ছে, যখন ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের দূরত্ব বেড়ে চলেছে স্বার্থ আর ব্যস্ততার অজুহাতে ঠিক সেই সময়ে নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের মিরপাড়া গ্রামের একটি পরিবার যেন নীরবে লিখে চলেছে ভিন্ন এক গল্প। এই গল্প ক্ষমতার নয়, সম্পদের নয় এই গল্প দায়িত্ববোধ, অভিভাবকত্ব আর ভ্রাতৃত্বের।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ জেলার আমীর এবং ৪৯ নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের এমপি পদপ্রার্থী খন্দকার মোহাঃ আব্দুর রাকিব রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও এলাকায় পরিচিত এক পিতৃসমতুল্য বড় ভাই হিসেবে।
ছয় ভাইয়ের সংসারে তিনি ছিলেন সেই মানুষটি, যিনি বাবার জীবিত থাকা সত্ত্বেও নীরবে, নির্লোভভাবে সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন ভাইদের আগলে রেখে গড়ে তুলেছিলেন পারিবারিক ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত।
আব্দুর রাকিবের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিল তাঁর ভাইয়েরা। ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়েও তিনি বড় করে দেখেছেন পারিবারিক দায়িত্ব ও সম্মিলিত অগ্রযাত্রার স্বপ্ন। শুরু থেকেই তাঁর লক্ষ্য ছিল ভাইদের পড়াশোনা, জীবন ও ভবিষ্যৎকে সুদৃঢ়ভাবে দাঁড় করানো। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই পড়াশোনা, ব্যবসা, পারিবারিক সিদ্ধান্ত কিংবা জীবনের কঠিন সময়ে তিনি অভিভাবকের মতো পাশে থেকেছেন। বড় ভাই হিসেবে নয়, একজন আশ্রয় ও নির্ভরতার মানুষ হিসেবেই তিনি আগলে রেখেছেন তাঁর ভাইদের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ছয় ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন ‘পিতৃসমতুল্য বড় ভাই’। সংসারের প্রয়োজনে যেমন ছিলেন অগ্রভাগে, তেমনি ভাইদের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রশ্নে ছিলেন সবচেয়ে দূরদর্শী। এক ভাইয়ের হাত ধরে দাঁড়ানো মানেই আরেক ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়া এই শিক্ষাই তিনি দিয়েছেন ছোটদের।
আজ ছয় ভাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। কেউ ব্যবসায় যুক্ত, কেউ চাকুরিতে নিয়োজিত। কর্মব্যস্ততার কারণে তারা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অবস্থান করলেও পারিবারিক বন্ধন কখনোই শিথিল হয়নি। সুযোগ পেলেই মাঝেমধ্যেই তারা একত্রিত হন একই টেবিলে বসে খাওয়া-দাওয়া করেন, ভাগ করে নেন জীবনের সুখ-দুঃখ, সাফল্য আর সংগ্রামের গল্প।
এই মিলন কেবল আনুষ্ঠানিক পারিবারিকতা নয়; বরং বড় ভাইয়ের হাত ধরে গড়ে ওঠা এক মানবিক সংস্কৃতি, যেখানে ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ আর ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হচ্ছে।
পরিবারের একজন সদস্য বলেন, আমাদের পরিবারে এখনো কেউ একা নয়। এক ভাই ডাক দিলে আরেক ভাই ছুটে আসে। এই বন্ধন আমাদের বড় ভাই আমাদের শিখিয়েছেন।
এই পরিবারে বাবার উপস্থিতি আজও আশীর্বাদ হয়ে আছে। বাবার জীবদ্দশায় সন্তানদের মধ্যে যে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সম্মানবোধ টিকে আছে তার পেছনেও বড় ভূমিকা রেখেছেন খন্দকার মুহাম্মদ আব্দুর রাকিব। তিনি কখনো বাবার স্থান দখল করেননি, কিন্তু প্রয়োজনে বাবার মতোই দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনীতির ময়দানে তিনি আজ একজন প্রার্থী। কিন্তু এলাকার মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতার বড় ভিত্তি রাজনীতির ভাষণ নয়, বরং পারিবারিক জীবনে তাঁর প্রমাণিত দায়িত্বশীলতা। মানুষ বিশ্বাস করে যে ব্যক্তি নিজের ভাইদের জন্য এতটা অভিভাবক হতে পারেন, তিনি জনসাধারণের প্রতিও দায়িত্বহীন হবেন না।
এই গল্প কোনো প্রচারণার গল্প নয়। এটি এক ভাইয়ের প্রতি আরেক ভাইয়ের কর্তব্য, ত্যাগ ও ভালোবাসার গল্প। এমন দৃষ্টান্ত আজকের সমাজে বিরল কিন্তু অসম্ভব নয়। খন্দকার মোহাম্মদ আব্দুর রাকিব সেই বিরলতারই এক জীবন্ত উদাহরণ।
এই ফিচার শুধু একজন মানুষের গল্প নয় এটি আমাদের সমাজকে মনে করিয়ে দেয়, পরিবারই প্রথম রাষ্ট্র, আর বড় ভাই হতে পারেন একটি পরিবারের সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ।


