বরেন্দ্রকণ্ঠ ডেস্ক
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, আমরা সরকার হিসাবে যখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন করছি, তখন আমরা দলনিরপেক্ষ। কিন্তু আমরা যখন গণভোট করছি, সেই ক্ষেত্রে আমরা নিরপেক্ষ না।
কারণ আমরা চাচ্ছি, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খাগুলো গণ-মানুষের দ্বারা সমর্থিত হোক। মানুষের আন্দোলনেই তো জুলাই অভ্যুত্থান সম্ভব হয়েছে। মানুষের দ্বারাই আইনগতভাবে সমর্থিত হোক। সেই জন্যই আমরা একটা পক্ষ। আমরা চাচ্ছি হ্যা ভোটের জয় হোক।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণা উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. বিধান রঞ্জন রায় বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের অন্যতম আকাঙ্খা ছিল আমরা একটি বৈষম্যমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই। এর আগেও একই আকাঙ্খা নিয়ে একটা গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। সেই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর তিনটি জোট মিলে একটা অঙ্গীকারনামা বা রূপরেখা করেছিল। যেগুলো গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের বাস্তবায়ন করার কথা ছিল।
কিন্তু আমরা দেখেছি পরবর্তী কোনো সরকার সেই অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন করেনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবারে যে জুলাই সনদ বা অঙ্গীকারনামা করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন হবে কিনা সেটা নিয়ে অনেকের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। এই জুলাই সনদে গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আকাঙ্খার প্রকাশ ঘটেছে সেইটাই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রকাশ ঘটা মানুষের আকাঙ্খার বাস্তবায়ন করাই এই সরকারের দায়িত্ব।’
গণ মানুষের সমর্থন আদায় হলে পরবর্তী সরকার রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার করতে বাধ্য হবে বলে উল্লেখ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আকাঙ্খার একটি হচ্ছে রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার। সংস্কারের জন্য সরকার অধ্যাদেশ জারি করে আইন করছে। এই আইনগুলো পরবর্তী সরকার বাস্তবায়ন করবে। আর যদি না করে তাহলে এই আইনগুলো বাতিল হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি সংবিধানেও সংস্কার দরকার।
সংবিধান সংস্কার করতে পারবে সংসদ। পরবর্তী সরকার যাদে গণমানুষের আকাঙ্খা অনুযায়ী চলতে পারে সেইজন্যই গণভোটের আয়োজন। আমরা মনে করি, যে কোনো দাবির পক্ষে গণমানুষের সমর্থন আদায় হলে পরবর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আকাঙ্খা অনুযায়ী রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার করতে বাধ্য হবে।’
সভায় উপস্থিত সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিধান রঞ্জন রায় বলেন, ‘সবার একটা কমন কাজ হলো গণভোটটা কি এটা মানুষকে বোঝানো এবং এইটুক বোঝানো যে, আমাদের আকাঙ্খাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে হ্যা ভোট দিতে হবে।
এখানে যাঁরা নির্বাচন পরিচালনার সাথে যুক্ত থাকবেন, তাঁরা নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন। এটাই হচ্ছে আপনাদের শক্তির উৎস। আপনি যদি নিরপেক্ষ থাকেন, তাহলে আপনার বিরুদ্ধে কেউ অপপ্রচার চালাতে পারে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে জানবে আপনি তো নিরপেক্ষ। দ্বিতীয়ত সমস্ত প্রশাসন সব সময় সচেষ্ট থাকবেন যেন আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক থাকে। মানুষ যদি আইনশৃঙ্খলার ব্যাপারে আসস্ত তাহলে তাঁরা ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে যাবে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।


