বদলগাছী সংবাদদাতাঃ
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন ও কৃষিজমির টপসয়েল কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলো এড়িয়ে গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কাগজে–কলমে আইন থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেউ কেউ পুরোনো পুকুর সংস্কারের আড়ালে, আবার কেউ সরাসরি ফসলি জমিতে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি করছেন। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসব কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে ভাতশাইল গ্রামে ফসলি জমিকে পুকুর দেখিয়ে মাটি কাটার চেষ্টা হলে ইউনিয়ন ভূমি অফিস মৌখিকভাবে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গতকাল ২৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টা থেকে গভীর সকাল ৬টা পর্যন্ত ফসলি জমিতে পুকুর খননের উদ্দেশ্যে ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হয়। স্থানীয়দের দাবি, বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও ফসলি জমিতে মাটি কাটা ও পুকুর খননের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইটভাটা স্থাপনের পর কৃষিজমির মাটি কাটার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে মিঠাপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি টপসয়েল কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পাহাড়পুর, মথরাপুর, আধাইপুর ও বালুভরা ইউনিয়নেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
গত কয়েক বছরে ফসলি জমির টপসয়েল কাটা ও অবৈধ পুকুর খননের ঘটনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা, মুচলেকা ও কারাদণ্ডের নজির থাকলেও এতে স্থায়ী সমাধান আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরেও একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মুচলেকা দেওয়া ব্যক্তিরা দিনের বেলায় কাজ বন্ধ রাখলেও গভীর রাতে পুনরায় মাটি কাটার কাজ শুরু করেন। সরকারি অফিস খোলার আগেই এসব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত ১৯ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে মিঠাপুর ইউনিয়নে ফসলি জমির টপসয়েল কাটার খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দীন ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর বালুভরা ইউনিয়নের প্রধানকুন্ডি মাঠে রাতের বেলায় দুটি ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহের খবর পাওয়া গেলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
মিঠাপুর ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মামুন বলেন,
“আমাদের এলাকার জমির মাটি খুব উর্বর। এ সুযোগে একের পর এক ইটভাটা গড়ে উঠেছে, আর মাটি কাটার প্রবণতাও বেড়েছে। অনেক জায়গায় কোদাল দিয়েই সহজে মাটি কাটা যায়।”
ভাতশাইল গ্রামের স্থানীয়রা জানান, একটি জমিতে দুই বছর আগেও ধান চাষ হতো। ওই জমির মালিক সাবেক ইউপি সদস্য রেজা আহাম্মেদ। তিনি গত বছর পকুর করার উদ্দেশ্যে ফসলি জমির চারিদিক পাড় বেধেঁ রেখেছিলো। এখন পকুর করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর সেখানে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে পুকুরের পাড় তৈরি করা হয়, যাতে দূর থেকে দেখলে জমিটি পুকুর বলে মনে হয়। এতে প্রশাসনিক জটিলতা এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভাতশাইল গ্রামের বাসিন্দা হাসান বলেন,ফসলি জমিতে পুকুর খনন করে মাটি ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি জানালেও আজও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান ছনি বলেন, জমির মালিকের পুকুর খননের বিষয়টি আমি জেনেছি। মৌখিকভাবে নিষেধ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


