আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতাঃ
নওগাঁর আত্রাইয়ে লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছেন কৃষক। গত বছর আলুর দরপতনে কৃষক ব্যাপক লোকসানে শিকার হলেও আশা আর শঙ্কা দুই অবস্থানের মধ্য দিয়েই ব্যাপক হারে আলুর চাষ করা হয়েছে।
জানা যায় গত বছর আলু চাষ করে এলাকার কৃষকরা ব্যাপক লোকসানের শিকার হন। শুরুর দিকে কিছুটা দাম থাকলেও পরে এসে আলুর দামে ব্যাপক ধস নামে। ফলে পানির দামে আলু বিক্রি করতে হয়েছে কৃষকদের। অনেক কৃষক কিক্রিত আলু থেকে উৎপাদন খরচের টাকাও উঠাতে পারেননি।
কৃষকরা জানিয়েছেন তাদের এক বিঘা জমিতে আলু উৎপাদনে জমি চাষ, বীজ ক্রয়, সার কীটনাশক, লেবারসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ গত বার এক বিঘা জমির আলু বিক্রি করতে হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকায়। এ ব্যাপক লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই এবারও পুরো উদ্যোমে আলু চাষে ঝুঁকেছেন এলাকার কৃষক। এলাকা জুড়ে আলুর বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও কৃষকদের কপালে রয়েছে চিন্তার ভাঁজ। আশা আর শঙ্কা দুই অবস্থানের মধ্যদিয়েই তারা ব্যাপক হারে আলু চাষে ঝুঁকেছেন।
স্থানীয় কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে এবারে উপজেলার ৮ ইউনিয়নে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে আহসানগঞ্জ, কালিকাপুর ও হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন বিশেষভাবে খ্যাত। এ তিন ইউনিয়নে সর্বাধিক পরিমাণ জমিতে এবারে আলু চাষ করা হয়েছে।
এসব ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে নদীর তীর, মাঠের জমি ও পতিত জমিসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হারে আলু চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা মনে করছেন এবারে আলুর বাম্পার ফলন হবে। নায্য মূল্য পেলেই কৃষকদের এই পরিশ্রম সার্থক হবে। উপজেলার চৌরবাড়ি গ্রামের আজিজুল হক বলেন, আমি ১৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। আলুর গাছও দর্শনীয় হয়ে উঠেছে। বাম্পার ফলন হবে বলে আমি আশাবাদি।
একই গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, গত বছর আলুতে আমরা ব্যাপক লোকসানের শিকার হয়েছি। এবারে নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহবান করছি। উপজেলা কৃষি অফিসার প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, আলু চাষে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে আসছি।
যাতে স্বল্প খরচে অধিক ফলন হয় এ জন্য আমরা বিভিন্ন সময় কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। এবারে আলুর বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।


