নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর পালিয়ে বিয়ে। কিন্তু সেই বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই স্ত্রীকে স্টেশনে রেখে তার গহনা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
থানা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর জেলার পশ্চিম গৌরিপাড়া এলাকার মো. আলাউদ্দিনের মেয়ে মোছা. ফারজানা শিমি (২৫) দীর্ঘদিন ধরে নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মো. মজলু হোসেনের ছেলে নূর মোহাম্মদ (৩১) এর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে তাদের মধ্যে এই সম্পর্ক চলছিল।
গত ৫ মার্চ পরিবারের অমতে তারা পালিয়ে গিয়ে রাজশাহীতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে রেজিস্ট্রি বিয়ে করেন। বিয়ের পর নূর মোহাম্মদ স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সান্তাহার পর্যন্ত ট্রেনে নিয়ে আসেন। তবে সেখানে এসে শিমির গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল নিয়ে তাকে স্টেশনে রেখে হঠাৎই পালিয়ে যান।
স্বামীকে খুঁজে না পেয়ে পরে শিমি বিভিন্নভাবে নূর মোহাম্মদের ঠিকানা সংগ্রহ করে নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া এলাকায় তার বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি উল্টো অস্বীকার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী ফারজানা শিমি জানান, ২০১৫ সালে দিনাজপুরে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকেই ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে তার অন্যত্র বিয়ে হলেও নূর মোহাম্মদ তাকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে সেই সংসার টিকতে দেননি। একপর্যায়ে পরিবারের অমতের আশঙ্কায় তারা পালিয়ে গিয়ে রাজশাহীতে বিয়ে করেন।
শিমির অভিযোগ, বিয়ের পর তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে সান্তাহার স্টেশনে এনে তার গহনা নিয়ে নূর মোহাম্মদ পালিয়ে যান। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যেকোন উপায়ে স্বামীর সাথে সংসার করতে চায় সে।
এ বিষয়ে প্রতিবেদক নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া মহল্লার সুইচগেট এলাকায় নূর মোহাম্মদের বাড়িতে গেলে চঞ্চল নামের এক ব্যক্তি বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকের পথরোধ করেন এবং জানান, বাড়িতে কেউ নেই। ফলে ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
নূর মোহাম্মদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সেটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্যও নেওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নিয়ামুল হক বলেন, নওগাঁর এক যুবক ও দিনাজপুরের এক তরুণী পালিয়ে গিয়ে রাজশাহীতে বিয়ে করেছেন। পরে ছেলেটি মেয়েটিকে রেখে বাড়িতে চলে আসে। মেয়েটি ছেলের বাড়িতে উঠতে না পেরে থানায় এসেছিল। ঘটনাটি অন্য জেলার হওয়ায় তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


