সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলা সদরের এক অসহায় উঠানে ক্যামেরা পৌঁছাতেই উঠে আসে মানবিক বিপর্যয়ের এক করুণ চিত্র। প্রতিবন্ধী হারেজ উদ্দীনের পরিবার তখন নীরবে লড়াই করছিল ক্ষুধা, অসুস্থতা এবং অনিশ্চয়তার সঙ্গে। ওষুধের অভাবে দীর্ঘ হচ্ছিল জ্বর, আর খাবারের অভাবে রাত হয়ে উঠছিল আরও দুর্বিষহ।
‘ওষুধ নেই, খাবার নেই, অসহায় এক প্রতিবন্ধী পরিবার’ শিরোনামে প্রকাশিত এই সংবাদটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর তা নজরে আসে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তাঁর নির্দেশে দ্রুত মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসে যুবদল।
যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপুর নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রউশন উল ইসলাম, সদস্য সচিব রুহুল আমিন মুক্তার, সদস্য শামীনুর রহমান শামীম, এমরান হোসেনসহ স্থানীয় যুবদল ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
তাদের উপস্থিতিতে যেন স্তব্ধ উঠানে নেমে আসে একটুকরো আশ্বাস। শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকেনি উদ্যোগ—পরিবারটির হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রায় দুই মাসের খাদ্যসামগ্রী এবং নগদ অর্থ। পাশাপাশি দেওয়া হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি।
“আমরা আছি, থাকব।” যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মাহমুদুস সালেহীন নিজস্ব তহবিল থেকে পরিবারটির হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। এছাড়া পরিবারের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন এবং বসতবাড়ি মেরামতের আশ্বাস দেওয়া হয়। শিশু খাতিজার শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান জেলা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
এই সহায়তা পেয়ে হারেজ উদ্দীন ও তার স্ত্রীর চোখে জল এলেও, তাতে মিশে ছিল স্বস্তি ও আশার আলো। দীর্ঘদিনের অবহেলার অন্ধকারে থাকা পরিবারটি যেন হঠাৎই নতুন করে বাঁচার প্রেরণা খুঁজে পেল।


