নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ
চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্য, মধুমাসের ˆবচিত্র্যময় ফলসম্ভার এবং লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁ। শুক্রবার বিকেলে জেলা শহরের প্যারীমোহন সাধারণ গ্রন্থাগারে সাড়স্বরে অনুষ্ঠিত হয় সংগঠনটির ঐতিহ্যবাহী ‘ফলোৎসব ও গীত-মঞ্জরি’। বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া এ আয়োজনকে ঘিরে সুধীজন, সংস্কৃতিপ্রেমী ও সংগঠনের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
এবারের ফলোৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল প্রায় ২২ প্রজাতির দেশীয় ফলের নান্দনিক প্রদর্শনী| আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, পেয়ারা ও জামরুলের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে লটকন, কামরাঙা, আতা, শরিফা, ডেউয়া, করমচা, কদবেল, বেল, সফেদা, আমড়া, বাতাবি লেবু, গাব, তাল ও বেতফলের মতো নানা দেশীয় ফল| পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ অথচ ক্রমশ বিস্মৃতপ্রায় এসব ফলের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করে তোলাই ছিল আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
উৎসবের শুরুতে স্বাগত ও সূচনা বক্তব্য রাখেন একুশে পরিষদ নওগাঁর সভাপতি অ্যাড. ডিএম আব্দুল বারী। তিনি দেশীয় সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নিজস্ব শিকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশ সম্ভব।
ফলোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব ‘গীত-মঞ্জরি’। এ পর্বে একুশে পরিষদের সদস্যবৃন্দ দেশাত্মবোধক, লোকজ ও আধুনিক সংগীত পরিবেশন করেন| মাটির গান, দেশীয় ফলের সৌরভ এবং আন্তরিক অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় রূপ নেয়।
এবারের ফলোৎসবের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল ফলসমূহের ˆশল্পিক উপস্থাপনা। ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের থালা, পাত্র ও বিভিন্ন সাজসজ্জার উপকরণ ব্যবহার করে ফলগুলোকে নান্দনিকভাবে প্রদর্শন করা হয়। এর মাধ্যমে শুধু ফলের ˆবচিত্র্যই নয়, বাংলার হারিয়ে যেতে বসা মৃৎশিল্পের ঐতিহ্যও নতুনভাবে সবার সামনে তুলে ধরা হয়েছে| দর্শনার্থীরা এ ব্যতিক্রমী পরিবেশনা ও লোকজ নান্দনিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পরিশেষে প্রদর্শিত দেশীয় ফল উপস্থিত অতিথি, সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে বিতরণ করা হয়| ফলের স্বাদ ও সংগীতের আবেশে ভরপুর এ আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের হৃদয়ে এক অনন্য আনন্দের স্মৃতি হয়ে থাকবে।
লোকজ সংস্কৃতি, দেশীয় ফল এবং ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের অপূর্ব সময়ে আয়োজিত এই ফলোৎসব ও গীত-মঞ্জরি প্রমাণ করেছে যে, নিজস্ব ঐতিহ্যকে সৃজনশীল ও আকর্ষণীয় উপায়ে উপস্থাপন করা গেলে তা নতুন প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। দেশীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিত সুধীজন অভিমত ব্যক্ত করেন।


