ডেস্ক রিপোর্টঃ
নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের চুয়ারপাড়া গ্রামে প্রভাবশালী মাতব্বর নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হামলা, বাড়ি ভাংচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে| ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ এখন রূপ নিয়েছে সহিংসতায়, আর এতে অন্তত পাঁচটি পরিবার চরম আতঙ্কে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের|
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে পবিত্র ঈদের দিন সকালে নামাজ আদায়ের সময় একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির সূত্রপাত হয়| অভিযোগ রয়েছে, এলাকার রুমন নামে এক ব্যক্তিকে নামাজ পড়তে বাধা দেওয়ার বিষয় নিয়ে মহসিন সরদার প্রতিবাদ জানালে নজরুল ইসলামের ছোট ভাই লোকমান ও জয়নুল তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন| এক পর্যায়ে নামাজরত অবস্থাতেই জয়নুল, মহসিনকে লাথি মারেন, যা ধর্মীয় পরিবেশে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে|
ঘটনাটি তখন সাময়িকভাবে থেমে গেলেও নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মহসিন সরদার ও তার সঙ্গী মামুনকে নজরুল ইসলামের বাড়ির সামনে পরিকল্পিতভাবে আটকে রাখা হয়| এরপর নজরুল ইসলাম, জয়নুল, আব্দুল মালেকসহ ১০-১৫ জন মিলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়| হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, রড এবং ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের|
হামলার একপর্যায়ে মহসিনকে হাসুয়া দিয়ে কোপ দেওয়া হলে তা ঠেকাতে গিয়ে তার ডান হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়| ¯^ামীকে রক্ষা করতে গিয়ে তার স্ত্রী আমিনা বেগমকেও পেছন থেকে মাথায় কোপ দেওয়া হয়, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন| তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলেও হামলাকারীদের ভয়ে কেউ সরাসরি প্রতিরোধে সাহস পাননি বলে জানা গেছে|
এদিকে, মহসিনের তিন ভাই ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়| প্রাণ বাঁচাতে তারা বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিলে অভিযুক্তরা বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়| এতে পুরো পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে| আটক রেখে বাহির থেকে তারা বাড়ির জানালা, মোটরসাইকেল এবং অটোচার্জার ভাংচুর করে|
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মহসিন জাতীয় জরুরি সেবা ন¤^র ৯৯৯-এ ফোন করেন| পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি| বরং পরে তাদের চিকিৎসার কথা বলে থানায় নিয়ে গিয়ে রাতভর আটকে রাখা হয় এবং পরদিন আদালতে পাঠানো হয়| ঘটনায় দুইপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে|
মহসিন সরদার বলেন, “আমাদের ওপর প্রকাশ্যে হামলা হলো, আমরা রক্তাক্ত হলাম| অথচ উল্টো আমাদেরই থানায় আটক রাখা হলো| অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় আইনও তাদের বিরুদ্ধে নীরব|” বাড়ির বাইরে বের হলেই হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে| ফলে নারী-শিশুসহ সবাই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন|
ঘটনার প্রভাব পড়েছে শিশুদের জীবনেও| ভুক্তভোগী পরিবারের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যেতে পারছে না| সে জানায়, “বাড়ি থেকে বের হতে ভয় লাগে| তারা দেখলেই মারবে বলে হুমকি দেয়|”
নজরুল ইসলাম হামলা ও ভাঙচুরের বিষইয়ে স্বীকার করে বলেন, সবাই উত্তেজিত ছিলো তাই সবাইকে কোন ভাবেই থামাতে পারিনি| তবে তারা আগে হামলা করেনি বরং প্রতিপক্ষ আগে হামলা চালিয়েছে| আর মহসিনদের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না সে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়|
এ ব্যাপারে নওগাঁ সদর থানার ওসি মো: আসাদুজ্জামানের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান, ঈদের দিনে মারামারি ঘটনায় সেখানে পুলিশকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে| পুলিশ সেখানে গিয়ে বাড়িতে আবদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে কয়েকজনকে নওগাঁ সদরে নিয়ে আসা হয়েছে| মামলাসূত্রে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে| বর্তমানে উভয় পক্ষের মামলা রয়েছে| এখন এটা আদালতের ব্যাপার, আমাদের করার কিছু নেই|


