বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
সরকারি বরাদ্দ ছিল উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য। কিন্তু সেই বরাদ্দে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না করে অফিস ভবনের রং-বার্নিশ, কক্ষের সৌন্দর্যবর্ধন ও সীমিত সংস্কারকাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৪ লাখ টাকার সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জারি করা স্মারক নং ৩৩.০১.০০০০.১০২.২০.০০২.২৫-৩০১, তারিখ ১৫ জুন ২০২৫ অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বদলগাছী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অনুকূলে ‘৩২৫৮১০৮-অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা’ খাতে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, “অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পর অন্যান্য মেরামত ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে।”
এছাড়া প্রয়োজনীয় কাজ শেষে অর্থ অবশিষ্ট থাকলে তা সরকারি বিধি অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।
তবে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পেছনের অংশ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখানে কোনো সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়নি। পরিবর্তে অফিস ভবনের বিভিন্ন অংশে রং-বার্নিশ, দেয়াল মেরামত ও কিছু সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে সরকারি পরিপত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন সেই কাজ বাস্তবায়ন করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া অফিসে ব্যবহৃত রঙের পরিমাণ হিসেবে দেখা গেছে, ১৮ লিটারের ১০টি ড্রাম, ৪ লিটারের ২০টি গ্যালন এবং ১ লিটারের কয়েকটি কৌটা ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব রঙের বাজারমূল্য এক লাখ টাকারও কম। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের রং ব্যবহার করে সীমিত সংস্কারকাজ দেখিয়ে পুরো বরাদ্দ ব্যয় করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বরাদ্দের মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
বদলগাছী উপজেলা প্রকৌশলী শাহীনুল ইসলাম বলেন, আমি বা আমার অফিসের কেউ প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কাজের এস্টিমেট করিনি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিজস্ব আঞ্চলিক প্রকৌশলী রয়েছেন। তারাই এস্টিমেট করেন। আমাকে একবার বলা হয়েছিল, কিন্তু আমি কাজটি করিনি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানী বলেন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেয়ে অফিস ভবনে রং করা এবং কিছু সংস্কার করা বেশি জরুরি ছিল। জেলা কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪ লাখ টাকা দিয়ে পুরো সীমানা প্রাচীর নির্মাণ সম্ভব নয়। তাই আমার কাছে এটাই অগ্রাধিকার মনে হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার প্রথমে বলেন, নীতিমালা অনুযায়ীই কাজ করা হয়েছে। পরে পরিপত্রে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনি বলেন, এটি প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কাজ। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজটি তদারকি করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি তারা যাচাই-বাছাই করে দেখবেন। যদি কোনো অনিয়ম বা নীতিমালা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, সরকারি পরিপত্র, বরাদ্দের উদ্দেশ্য এবং বাস্তবে সম্পন্ন হওয়া কাজ—এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা হোক। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।


