আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা
একটুখানি ঝোড়ো হাওয়া কিংবা সামান্য বৃষ্টি প্রকৃতির রূপ সাধারণ মানুষের কাছে স্বস্তির হলেও নওগাঁর আত্রাই উপজেলার খনজোর গ্রামের আনোয়ার শেখের (৫৫) পরিবারের জন্য তা নিয়ে আসে চরম বিপর্যয় ও মৃত্যুর আতঙ্ক।
টিন আর বাঁশের তৈরি যে ছোট্ট জরাজীর্ণ ঘরটিতে পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি রাত কাটান, তা এখন ভাঙনের শেষ প্রান্তে। নড়বড়ে বাঁশের খুঁটিগুলোকে কোনোমতে দড়ি দিয়ে বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন রাতে যখন পুরো গ্রাম ঘুমে আচ্ছন্ন হয়, তখন এই পরিবারের চোখে নেমে আসে আতঙ্কের প্রহর কখন যেন মাথার ওপর ভেঙে পড়ে বাঁশ-টিনের এই জীর্ণ চাল।
মৃত মোবারক শেখের ছেলে মো. আনোয়ার শেখের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসার। মাত্র ১ শতক জমির ওপর গড়ে তোলা এই নড়বড়ে ঘরটিই তাদের মাথা গোঁজার একমাত্র সম্বল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, দারিদ্র্যের কষাঘাতের পাশাপাশি তার ওপর চেপে বসেছে জটিল অসুস্থতা।
বেশ কিছুদিন ধরে তিনি মারাত্মক হৃদরোগ ও চোখের জটিল সমস্যায় ভুগছেন। বুকভাঙা ব্যথা আর চোখের ঝাপসা দৃষ্টি নিয়ে পরিশ্রম তো দূরের কথা, স্বাভাবিক চলাফেরা করাই এখন তার জন্য দুষ্কর। একদিকে ঘরে খাবার নেই, অন্যদিকে নিজের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই। দুইয়ের নির্মম চাপে আনোয়ার শেখ আজ সম্পূর্ণ দিশেহারা।
বর্তমানে ঘরটি নতুন করে তৈরি করা কিংবা সামান্য মেরামত করার মতো এক টাকার সম্বলও তার কাছে নেই। খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই হওয়া থেকে বাঁচতে এবং পরিবারকে একটু নিরাপদ আশ্রয় দিতে তিনি তাকিয়ে আছেন সরকারি অনুদান এবং সমাজের বিত্তবান ও দয়ালু মানুষদের সহায়তার দিকে।
ছলছল চোখে জীবনের শেষ আকুতি জানিয়ে অসহায় আনোয়ার শেখ বলেন, শরীরে মারাত্মক রোগ নিয়ে দিন-রাত কষ্ট পাচ্ছি। ঠিকমতো ডাক্তার দেখানো বা ওষুধ কেনার টাকাও আমার নেই। বুকে ব্যথা আর চোখের সমস্যার কারণে কোনো ভারী কাজ করতে পারি না। ঘরের যে অবস্থা, দড়ি দিয়ে খুঁটি বেঁধে কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছি।
রাতে ঘুমালে ভয় লাগে, কখন যেন চালটা মাথার ওপর ভেঙে পড়ে। আমার তো নিজের নতুন ঘর তোলার মতো ক্ষমতা নাই। সমাজের কোনো দয়ালু মানুষ যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়াতেন, তাহলে অন্তত মরার আগে পরিবারটারে নিয়া নিরাপদে মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই পেতাম।
সামান্য একটু সহানুভূতি ও মানবিক সহায়তাই পারে এই ভাঙা ঘরের আতঙ্ক দূর করে একটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। আনোয়ার শেখের চিকিৎসা ও বাসস্থান মেরামতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।
সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা / বিকাশ (ব্যক্তিগত) ০১৭৮২-৯২৬৯২৯ (মো. আনোয়ার হোসেন)।


