বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় পাখি (৪০) নামে এক শ্রমিক সরদারকে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় বদলগাছী থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।
অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণ কী—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫ নম্বর কোলা ইউনিয়নের কয়েকজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তি গত ১৮ আগস্ট এইচ এম আসাদুজ্জামান টুটুলের বিরুদ্ধে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে টুটুলের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, টুটুলের কর্মকাণ্ডে ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে আশঙ্কা করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। ওই আবেদনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকের সুপারিশও ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
অভিযোগকারীদের দাবি, লিখিত আবেদন দেওয়ার পরও পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর পাঁচ দিনের মাথায় গত ২২ আগস্ট দুপুরে কোলা ইউনিয়নের সোনারপাড়া গ্রামের শ্রমিক সরদার পাখির শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুর ইসলাম স্বপন বলেন, একটি মাদক মামলায় টুটুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর যারা সাক্ষী দিয়েছিলেন এবং যারা তার বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, তাদের ওপর তিনি ক্ষিপ্ত ছিলেন। তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করতেন। এ কারণে আমরা ১৮ আগস্ট থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করি। কিন্তু অভিযোগের পরও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
চেয়ারম্যান আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার আগের দিন ২১শে আগষ্ট শনিবারে আমাকে ফোন দিযে বলে আপনি কোথায় আছেন।আমার কাছে টাকা নাই খাবারের।৫০০টাকা দেওয়া লাগবে।আমি পরিষদে আছি বললে এইচ এম আসাদুজ্জামান টুটুল পরিষদে আসে আমাকে সাইডে ডাকে। আমার রুমে নেতৃবৃন্দ থাকার জন্যে ভিতরে ঢোকে না।আমি বুঝতে পেরে বাহিরে আমি যাই না।
চেয়ারম্যান বলেন, আমরা অভিযোগ দিয়েছি যে যে কোন সময়, যে কোন মুহুর্তে যে কারো উপড় হামলা করতে পারে জন্য অভিযোগ দিয়েছি।
কোলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সহ অনেকেই বিষয়টি দেখার কজন্য ওসি সাহেবকে বলছে, ওসি বলেন, ঘটনা না ঘটলে আমরা কি করবে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ঘটনার দিন গতকাল ২২শে আগষ্ট শনিবার সকালে কোলা ইউনিয়ন বিএরপির সাধারন সম্পাদক নুর ইসলাম মাস্টার বের হইছে কিনা দেখে এইচ এম আসাদুজ্জামান টুটুল নুর ইসলামকে না পেয়ে কোলা ইউনিয়ন পরিষদে আসে।
সে জানে যে চেয়ারম্যান সকালে আসে। কেউ না থাকলে আমার ক্ষতি করবে। আমার গতকাল একটা কাজে আটকা পড়ে সকাল ১১টার পরে পরিষদর আসি। পাত্তা না পায়ে এইচ এম আসাদুজ্জামান টুটুল
আবার কোলাতে যায়। একটু পর আবার আসে আসে বলে বড় ভাই বাহিরে আসেন কথা বলবো। আমি বুঝতে পেরে বাহিরে যাই না। পরে এইচ এম আসাদুজ্জামান টুটুল বদলগাছীতে যায় এবং পাখি(৪০) উপড় হামলা করে।ঘটনা স্থলে পকুর না থাকলে। কাল পাকি মারা যেত।
চেয়ারম্যানের দাবি, পুলিশ আগে ব্যবস্থা নিলে পরদিনের হামলার ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত।
কোলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, প্রশাসন যদি আগে ব্যবস্থা নিত, তাহলে এ ঘটনা ঘটত না। আমরা এর আগেও বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু ওসি সাহেব বলেছিলেন, ঘটনা ঘটুক, তারপর দেখব।
কোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থানাপুলিশ যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করত, তাহলে এই ঘটনা ঘটত না। নিরাপত্তার আশঙ্কার কথা জানিয়েই আমরা আবেদন করেছিলাম।
এ ঘটনায় জানতে চাইলে বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি রুহুল আমিন বলেন, আমি বলেছিলাম আপনারা এজাহার দ্যান। তারা দেয় নি।এজাহার ছাড়া কোন পিটিশনে কোন মামলা নেয়া যায় না।


