বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার গয়ড়া তেঁতুলীয়া ডি. এম. ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার একটি পরিত্যক্ত ভবন নিলামের পুরো টাকা পরিশোধ না করেই মালামাল অপসারণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জামিল হোসেন কোলা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
নিলামের বাঁকি ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ না করে উল্টো দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগে এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে সভাপতি করে গঠিত ১১ সদস্যের একটি কমিটির মাধ্যমে সম্প্রতি মাদ্রাসার মাঠে ওই পরিত্যক্ত ভবনটি উন্মুক্ত নিলামে তোলা হয়। নিলামে জয়পুরহাটের আতাউর রহমান নামের একজন ব্যবসায়ী সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দর হাঁকান। তাঁর বিপরীতে যুবদল নেতা জামিল হোসেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা সর্বোচ্চ দাম ডাকলে নিলাম কমিটি তার পক্ষে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।
নিয়ম অনুযায়ী নিলামের পুরো অর্থ পরিশোধ করে মালামাল সরানোর কথা থাকলেও জামিল হোসেন ২ কিস্তিতে মাত্র ১ লাখ টাকা পরিশোধ করে সব মালামাল নিয়ে যান। বাঁকি ৩০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি কালক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে নিলামের সমুদয় টাকা বুঝে না নিয়ে পরিতাক্ত ভবনটি সরানোর অনুমতি দিয়ে মাদ্রাসার অধক্ষ্যও অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসীন্দারা।
নিলাম কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধিরা জানান, বাঁকি টাকার জন্য যুবদল নেতাকে চাপ দিলে তারা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা এখন আর টাকা চাইতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত যুবদল নেতা জামিল হোসেন টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি ১ লাখ টাকা জমা দিয়ে মালামাল এনেছি। বাঁকি ৩০ হাজার টাকার জন্য দুটি ওয়ালের নিচের অংশ রেখে এসেছি হয়তো সেটি বাদ দিলে ১০/১৫ হাজার টাকা হিসাব হবে। তবে এ বিষয়ে তার কাছে কোনো রশিদ/ কাগজ নেই বলে জানান।
জামিল হোসেনের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান বলেন, জামিল হোসেন ১ লাখ টাকা দিয়ে ভবনের মালামাল নিয়ে গেছেন, বাঁকি ৩০ হাজার টাকা এখনো দেননি। টাকা চাইলে তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব দেখাচ্ছেন। বিষয়টি নিলাম কমিটির সভাপতি ইউএনও স্যারকে জানানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটির বিষয়ে কোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম বলেন, আমি নিলামের সময় উপস্থিত ছিলাম। আমি যতদুর জানি অধক্ষ্য নাকি দুটি ওয়াল ভাঙতে দেইনি। জামিল হোসেনের এই নিলামে প্রায় ৪০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
এ ব্যপারে কোলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন জানান, জামিল ডাকের মাধ্যমে ভবনটি নিয়েছে তা আমি জানি। তবে টাকা পুরোপুরি পরিশোধ করেছে কি না তা জানা নেই। টাকা পরিশোধ না করার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম জানান, তিনি নিলামের সময় উপস্থিত থাকলেও টাকা বাঁকি থাকার বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
নিলামের সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনির সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি ঐ নিলাম কমিটির একজন প্রতিনিধি (সদস্য) ছিলাম জামানত জমা নিয়ে নিলাম ডাক প্রদান করা হয়েছিলো । পরবর্তীতে সে নিলামের টাকা পরিশোধ করেছেন বা বাঁকি রেখেছেন সেই বিষয়ে আমাকে কেউ লিখিত বা মৌখিক জানায়নি।


