নাজমুল হক, সিরাজগঞ্জঃ
শাহজাদপুরের (সিরাজগঞ্জ) মানুষ তাঁকে চেনেন গরিবের একজন ডাক্তার হিসেবে – যার হাতে বহু মানুষ আবার দেখতে পেয়েছেন জীবনের আলো ।
চোখে জটিল রোগে আক্রান্ত অগণিত রোগীর কাছে তিনি ছিলেন ভরসার নাম ।
সেই ডাক্তার মুহিত এবার আর শুধু অপারেশন থিয়েটারেই সীমাবদ্ধ নন, দেশের বৃহত্তর সেবার প্রত্যয়ে তিনি নেমেছেন রাজনীতির মাঠে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ ৬ (শাহজাদপুর) আসনে বিএনপি এর প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তিনি।
ডাক্তার মুহিতের এই যাত্রা হঠাত্ নয়। মানুষের সেবা তাঁর জীবনের ব্রত । চিকিত্সা পেশায় দীর্ঘদিন কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন- চিকিত্সার বাইরেও মানুষের জীবনে আরও বহু অন্ধকার আছে।
দারিদ্র, কর্মসংস্থানের অভাব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার সঙ্কট- এসব অন্ধকার দূর করতেই তাঁর রাজনৈতিক অভিযাত্রা । তাঁর ভাষায়, ” চোখে আলো ফেরানোর পাশাপাশি মানুষের জীবনে স্থায়ী আলো আনতে চাই।”
শাহজাদপুরের রাজনীতিতে ডাক্তার মুহিত ও তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য এলাকার মানুষের কাছে অতি পরিচিত ।
তাঁর পিতা ডাক্তার মতিন এক সময় এই আসনের এমপি ছিলেন । জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সুখ দুঃখে পাশে থাকার যে স্মৃতি আজও এলাকার প্রবীনদের মুখে মুখে ফেরে । সেই উত্তরাধিকারই বহন করছেন মুহিত । তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিচয়ের জোরে নয়; কাঝের মাধ্যমেই তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করতে চান।
চিকিত্সক হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় মানবিকতা । বিনামূল্যে চিকিত্সা দেওয়া, প্রত্যন্ত গ্রামে চক্ষু শিবিরের আয়োজন, অসচ্ছল রোগীদের অপারেশনের ব্যবস্থা এসব কর্মকান্ড তাকে মানুষের খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছে। নির্বাচনী মাঠেও সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর শক্তি । প্রচারণায় তিনি বলেছেন, আমি রাজনীতি করতে এসেছি সেবা দিতে, শাসন করতে নয় ।
শাহজাদপুরের চা দোকান থেকে হাটবাজার- সবখানেই এখন আলোচনা ডাক্তার মুহিতকে নিয়ে । কেউ বলছেন একজন সেবামুখী মানুষ রাজনীতিতে এলে পরিবর্তন আসবেই।
চোখের আলো ফেরানোর ডাক্তার মুহিতের এই রাজনৈতিক অভিযাত্রা শেষ পর্যন্ত কোন পথে যাবে, তা বলবে ভোটের ফলাফল । তবে এ কথা নিশ্চিত -শাহজাদপুরের রাজনীতিতে তিনি এসেছেন সেবার ভাষা, মানবিকতার বন্ধু হয়ে ।
সংসদের আলো তিনি কতটা উজ্জল করতে পারবেন, তা নির্ভর করছে মানুষের রায়ের ওপর।


