আমইনুল হক সিরাজগঞ্জ
গ্রামের মাটির গন্ধে বড় হওয়া মানুষের মধ্যে একধরনের স্বচ্ছতা থাকে- কথায়, কাজে এবং চরিত্রে । তেমনি এক নিরহঙ্কার, সাদাসিধে অথচ আলোকিত মানুষ অধ্যাপক মনোয়ারুল হক। পেশায় কলেজের অধ্যাপনা, হৃদয়ে মানব সেবার এক নিরলস কারিগর তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে কাজিপূর ( সিরাজগঞ্জ) গান্ধাইল কলেজে সমাজকর্ম বিষয়ে পাঠদান করে আসছেন নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে । তাঁর কাছে শিক্ষা কেবল পেশা নয়, এটি এক ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা ।
অধ্যাপক মনোয়ারুলের অবদান শুধু শিক্ষাঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয়। নিজ গ্রাম শাহজাদপুর উপজেলার জগতলা দাখিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছেন । তিনি বিশ্বাস করেন, ধর্মীয় শিক্ষার সাথে নৈতিকতা ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয়ই পারে একটি প্রজন্মকে আলোকিত করতে।
পাশাপাশি গ্রামের একটি মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্বও তাঁর কাঁধে তুলে দিয়েছেন গ্রামবাসী । এ দায়িত্ব তাঁর কাছে কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি সামাজিক অঙ্গীকার । মসজিদকে শুধু ইবাদতের স্থান হিসেবে নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিকতার কেনদ্র হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সচেষ্ট । তাঁর উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা গ্রামের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করছে ।
অধ্যাপক মনোয়ারুল হকের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর বিনয় ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সাদাসিধে।প্রচারবিমুখ এ মানুষটি নিজের কাজকে কখনও ছোট করে দেখেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, নীরবে ভালো কাজ করে যাওয়াই প্রকৃত সাফল্য । গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষিত সমাজ- সকলেই তাঁকে সম্মান করেন তাঁর সততা ও মানবিকতার জন্য ।
বর্তমান সময়ে যখন আত্মপ্রচারের ঝলকানিতে অনেকেই আলোকিত হন, তখন অধ্যাপক মনোয়ার নীরবে কাজ করে যাওয়ার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত । তিনি প্রমান করেছেন, একজন সত্যিকারের শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না- তিনি সমাজ গড়েন, মূল্যবোধ গড়েন, মানুষ গড়েন।


