আমিনুল হক, সিরাজগঞ্জ
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা নিউমার্কেট । এ রমজানেও সকাল থেকে রাত- মানুষের ভিড়, যানজট, দরদাম আর হাঁকডাকে মুখর চারপাশ। এ কোলাহলের মাঝেই কাঁধে ঝোলানো রঙিন কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে ঘুরে বেড়ান ২৪ বছরের শাহাদত । পরিচিত মুখ তিনি নিউমার্কেট এলাকাজুড়ে।
শাহাদাতের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সুধারাম। ছোট বেলায় অভাব ছিল নিত্য সঙ্গী। পড়াশোনা বেশি দূর এগোয়নি। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়েছে খুব তাড়াতাড়ি । বছর কয়েক আগে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান ঢাকায় । শুরুতে দিন মজুরির কাজ করলেও পরে বেছে নেন ব্যাগ ফেরির পেশা।
প্রতিদিন সকালেই পাইকারির বাজার থেকে বিভিন্ন নকশা ও মাপের ব্যাগ কিনে আনেন তিনি। এরপর নিউমার্কেট ও আশপাশের ফুটপাতে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন। কখনও রোদে পুড়ে, কখনও বৃষ্টিতে ভিজে- তবুও থেমে থাকে না। দিনে এক হাজার হতে দু, তিন হাজার পর্যন্ত বিক্রি হয় । খরচ বাদ দিয়ে যা থাকে, তা থেকেই গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠান।
শাহাদাত বলেন, “এ ব্যাগই আমার সব। বেঁচা বিক্রি ভালো হলে মনে সাহষ পাই, খারাপ হলে চিন্তা বাড়ে। কিন্তু থামলে তো চলবে না। বাড়িতে মা বাবা, ভাই বোন, বিবি সবার মুখের দিকে তাকালে সব কষ্ট ভুলে যাই।”
রাজধানীর ফুটপাতের জীবন সহজ নয়, চাঁদা, প্রতিযোগিতাসহ নানা ঝক্কি ঝামেলাও আছে। তিনি বলেন, “বড়ো ব্যবসা করার মতো পুঁজি নেই। তাই ফেরিই আমার ভরসা।”
তবে হতাশার মাঝেও আছে স্বপ্ন। কিছু টাকা জমিয়ে একদিন ছোট একটি দোকান দেওয়ার ইচ্ছা তার। যাতে রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঘুরতে না হয় ।
কাপড়ের ব্যাগ এখন পরিবেশবান্ধব হিসেবে বেশ জনপ্রিয় । ফলে শাহাদতের মতো ক্ষুদ্র ফেরিওয়ালারাও পাচ্ছে টিকে থাকার সুযোগ ।
রাজধানীর ঝলমলে বিপনীবিতানের আড়ালে এমন হাজারো শাহাদত প্রতিদিন লড়ছেন জীবিকার জন্য । ফুটপাতে দাঁড়িয়ে তিনি শুধু ব্যাগ বিক্রি করেন না, বেঁচেন – আশা, দায়িত্ব আর পরিবারের জন্য একরাশ ভালোবাসা ।
তার মতো শাহাদতের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সংগ্রামই জীবনের আরেক নাম। আর সেই সংগ্রামের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে অদম্য স্বপ্নের আলো ।


