নাজমুল হক, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জগতলা গ্রামের নদীঘাট-এ যেন এক চলমান জীবনের প্রতিচ্ছবি। ভোরের আলো ফুটতেই ঘাটজুড়ে মানুষের ঢল নামে। কেউ ফিরছেন কর্মস্থলে, কেউবা পরিবার পরিজনের বাসায়। নৌযানই এখানে প্রধান ভরসা। কিন্তু হাজারো যাত্রীর এ নির্ভরতার ঘাটে আজও নেই আধুনিক লঞ্চ সার্ভিস-যা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে ।
প্রতিদিন এ নদীঘাট দিয়ে অগনিত মানুষ আরিচা হয়ে ঢাকা,গাজীপুর, সরাসরি নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। ইঞ্জিন চালিত নৌযানই তাদের একমাত্র মাধ্যম। বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল হলে এ যাত্রা হ হয়ে ওঠে আরও ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও জীবিকার তাগিদে, প্রয়োজনের তাড়নায় মানুষকে এ ঝুঁকি নিয়েই পথ পাড়ি দিতে হয়।
ঘাটে আসা যাত্রীদের সাথে কথা বললে, উঠে আসে একই সুর-“একটা লঞ্চ সার্ভিস হলে যাতায়াত অনেক সহজ হতো। “পুরুষ,নারী,শিশু-সব বয়সের মানুষকেই কষ্ট করে উঠতে হয় নৌকায়। অনেক সময় ভিড়ের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায় ।
নারায়ণগঞ্জের যাত্রী রফিক সর্দার বলেন,এ নদীঘাটের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আশপাশের বিশ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের কেনদ্র বিন্দু। অথচ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে ঘাটটি এখনও অনুন্নত। নিয়মিত লঞ্চ সার্ভিস চালু হলে যেমন যাত্রীদের কষ্ট কমবে,তেমনি বাড়বে এলাকার অর্থনৈতিক গতি।
বিশিষ্ট পরিবেশ গবেষক ডক্টর গোলাম আহমেদের মতে, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় নৌপরিবহন নিশ্চিত করতে লঞ্চ সার্ভিস চালু করা অত্যন্ত জরুরি। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।
জগতলা নদীঘাটের এ চিত্র একটি ঘাটের গল্প নয়, এটি গ্রামবাংলার হাজারো মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। তাই সময়ের দাবি-এ নদীঘাটে লঞ্চ সার্ভিস চালু করে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।
সরকারের কাছে এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা-“জগতলা নদীঘাটে লঞ্চ সার্ভিস চাই, নিরাপদ যাত্রা চাই।”


