সাগর মিয়া, রংপুর :
রংপুরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় প্রশ্ন ফাঁসে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, গোলাম কিবরিয়া ও শ্রী সুমন চন্দ্র। তারা দুজনই রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কাপরিখাল ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি পুলিশের সূত্র জানায়, আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রস্তুতি চলছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, ডিজিটাল স্টোরেজ ডিভাইসসহ প্রশ্ন ফাঁসে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা পরীক্ষার প্রশ্ন আগেভাগেই সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার্থীদের কাছে অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে।
তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য হিসেবে কাজ করছিল এবং পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন সংগ্রহ করে তা নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
এতে চক্রটির বিস্তৃতি, আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় তাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। সনাতন চক্রবর্তী জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তারা পরীক্ষার প্রশ্ন সংগ্রহের পর তা ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ করে নির্দিষ্ট গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিত।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার মতো একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। প্রশ্ন ফাঁস চক্রকে সম্পূর্ণভাবে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের মূলহোতা ও অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। খুব শিগগিরই আরও গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দণ্ডবিধি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। পাশাপাশি প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সরকারি-বেসরকারি কোনো কর্মকর্তা বা পরীক্ষাকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত আছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল।
ডিবির এই অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল। তারা প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


