সাগর মিয়া,রংপুরঃ
বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, ১:৪ অনুপাতে ১২ গ্রেডের কাঠামোর ভিত্তিতে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ, দ্রুত পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তা কার্যকর করার এক দফা দাবিতে রংপুরে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন সরকারি কর্মচারীরা।
গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রেসক্লাব রংপুরের সামনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ রংপুর বিভাগ ও জেলা শাখার আয়োজনে এ প্রতীকী অনশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিকী অনশন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীরা একটি বৈষম্যহীন বেতন কাঠামোর দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বিদ্যমান বেতন কাঠামো দিয়ে পরিবার পরিচালনা করা, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে একটি বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী পে-স্কেল ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি। অথচ বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না, যা কর্মচারীদের হতাশ করছে।
১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুশিয়ারী দেন আন্দোলনের নেতারা। বক্তারা স্পষ্ট করে জানান, তাদের একমাত্র দাবি ১:৪ অনুপাতে ১২ গ্রেডের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং তা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করা।এই দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণাসহ আন্দোলন অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচিতে আন্দোলন কমিটির মূখ্য সমন্বয়ক মাসুদ পারভেজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সভাপতি আব্দুল রহিম বাবলু,সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর,রংপুর জেলা চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি মিঠু মিয়া, সহ-সম্পাদক মিজানুর রহমান,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুরের সভাপতি মাসুদ হাসান,সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান,রংপুর কালেক্টরেট ও চিত্তবিনোদন ক্লাবের সভাপতি মিরাজুল ইসলাম,সাধারণ সম্পাদক তুহিন মিয়া,মেডিকেল কলেজ ইউনিটের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর রংপুরের সভাপতি আব্দুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পাশাপাশি সারাদেশে ধারাবাহিক ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ সময় বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি পরিষদ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।


