রংপুর প্রতিনিধিঃ
রংপুর: তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, তিস্তার বুকে আর কোনো বিক্ষিপ্ত প্রকল্প নেওয়া হবে না। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই নদী শাসন, খনন এবং তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর সার্কিট হাউজ-এ বিভাগীয় পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী দুলু বলেন, “তিস্তা আন্দোলনের সঙ্গে আমি নিজেও জড়িত। তিস্তাপাড়ের সন্তান হিসেবে রংপুরের প্রায় দুই কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা আমি জানি।
আমরা সদ্য সরকার গঠন করেছি। এরই মধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।” তিনি জানান, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিস্তা নিয়ে কিছু প্রকল্প গ্রহণ করলেও বর্তমান সরকার সমন্বিত মহাপরিকল্পনার দিকেই এগোচ্ছে। “সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমেই তিস্তা নদীকে পরিকল্পিতভাবে শাসন করা হবে,” যোগ করেন তিনি। রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “এই অঞ্চলকে আর পিছিয়ে পড়তে দেওয়া হবে না।
রংপুর খাদ্য উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র। এখানকার জমি ও শ্রম সাশ্রয়ী, মানুষ পরিশ্রমী এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো। তাই ধৈর্য ধরুন, রংপুরও অন্যান্য অঞ্চলের মতো সমভাবে উন্নত হবে।” মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনটি অগ্রাধিকার খাতের পাশাপাশি মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন দফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঘাটতি এবং অন্যান্য বিভাগের তুলনায় রংপুরে কম প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। “মানুষ যাতে সহজে ও দ্রুত সেবা পায়, সে বিষয়ে মাঠ প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।
আইনগত অধিকার প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, “শুধু নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার ক্ষেত্রেই নয়, যে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার মামলা করতে পারবে। কারো সঙ্গে অন্যায় হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্রয় নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।” রংপুরে অতীতের বৈষম্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিগত সময়ে রংপুর বিভাগে বৈষম্য হয়েছে, যা মানুষের মাঝে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এবারের বাজেটে যাতে কোনো বৈষম্য না থাকে, সে চেষ্টা থাকবে এই অঞ্চলের সন্তান হিসেবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে রংপুর সফরকালে এ অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
শিল্প-কারখানা স্থাপনসহ রংপুরের সার্বিক উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।


