রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় একটি সড়কের পুরোনো ইট উত্তোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো নিলাম প্রক্রিয়া সরকারি বিধি মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা হাটের পূর্ব পাশের সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন।
সড়ক সংস্কারের অংশ হিসেবে পুরোনো ইট অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১২ অক্টোবর এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইটের পরিমাণ নির্ধারণ করেন। পরদিন উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে প্রাক্কলন তৈরি করে ইউনিয়ন পরিষদকে নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য মতামত দেওয়া হয়। নিলামে মোট ১১ জন দরদাতা অংশ নেন। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হন ঠিকাদার মো. রাশেদুজ্জামান রাসেল।
তিনি সোনালী ব্যাংকের গঙ্গাচড়া শাখায় ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি ভ্যাট ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ পরিশোধ করেন বলে জানা গেছে। তবে ইট উত্তোলন শুরু হলে স্থানীয় দোকান মালিক সমিতি ও কিছু এলাকাবাসী আপত্তি জানান। তাদের দাবি, এসব ইট স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার করা উচিত। এ নিয়ে হাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। পরে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সাময়িকভাবে ইট উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
নিলামপ্রাপ্ত ঠিকাদার মো. রাশেদুজ্জামান রাসেল বলেন, “আমি বৈধভাবে নিলামের মাধ্যমে ইট ক্রয় করেছি এবং ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছি। এরপরও বাধা দিলে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।”
এদিকে বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মারুফ রহমান বলেন, “নিলাম সঠিক প্রক্রিয়ায় হয়ে থাকলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা সহযোগিতা করব।” উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, প্রাক্কলন প্রস্তুত করে দেওয়া হয়েছে এবং নিলাম বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের। বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. সামছুল হুদা বলেন, “সরকারি বিধি মেনেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “সড়কটি এলজিইডির আওতাধীন হওয়ায় ইটের মূল্য নির্ধারণসহ বিষয়গুলো তারা তদারকি করে। ইউনিয়ন পরিষদ এলজিইডির অনুমতি নিয়ে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ইট বিক্রি করতে পারে। ক্রয়কারী ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার চালান দেখিয়েছেন। প্রক্রিয়া সঠিক হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বর্তমানে ইট উত্তোলন বন্ধ থাকায় মন্থনা হাট এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, যা জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


