রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কার্যক্রম চলছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের মধ্যে স্বল্পমূল্যে চাল পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগীরা। উপজেলার ১৩ নম্বর কালুপাড়া ইউনিয়নের লালদিঘী বাজারের বিতরণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত দিনে সকাল থেকেই তালিকাভুক্ত কার্ডধারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে চাল সংগ্রহ করছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই চাল বিতরণ করা হচ্ছে। বিতরণকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ডিলার মো. রায়হান কবিরের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীদের মধ্যে এ চাল বিতরণ করা হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক কার্ডধারী মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল পান। এতে একজন সুবিধাভোগীকে ৩০ কেজি চালের জন্য ৪৫০ টাকা দিতে হয়।
লালদিঘী বাজারের বিতরণকেন্দ্রটি সপ্তাহে তিন দিন—সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চাল বিতরণ করে।
চাল নিতে আসা কয়েকজন সুবিধাভোগী জানান, বাজারে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ৪৫০ টাকায় ৩০ কেজি চাল পাওয়া তাদের জন্য বড় সহায়তা। কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো আরও উপকৃত হবে বলে তারা জানান। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মো. রায়হান কবির বলেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী প্রকৃত কার্ডধারীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম করা হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, প্রত্যেক সুবিধাভোগী যাতে নির্ধারিত পরিমাণ ও সঠিক ওজনে চাল পান, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, লালদিঘী বাজারে রায়হান কবিরের মাধ্যমে চাল বিতরণ কার্যক্রম তিনি দেখেছেন। তার দাবি, কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে না এবং সুষ্ঠুভাবেই চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি। ১৩ নম্বর কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার আনোয়ারও চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, রায়হান কবির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন এবং সুবিধাভোগীদের নির্ধারিত পরিমাণ চাল দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক বলেন, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। প্রকৃত ও তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীরা যাতে নির্ধারিত মূল্যে সঠিক পরিমাণ চাল পান, তা নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো সুবিধাভোগী যেন হয়রানি বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির লালদিঘী বাজার ডিলার পয়েন্টের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ জেড এ আশরাফুজ্জামান (বিপ্লব) বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ টাকা কেজি দরে প্রত্যেক কার্ডধারীকে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, স্বল্পমূল্যে চাল পাওয়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হচ্ছে। তবে কর্মসূচির সুফল আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে প্রকৃত সুবিধাভোগীর তালিকা, সঠিক ওজন, নির্ধারিত মূল্য এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।


