রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক লাখোকণ্ঠ ও দৈনিক প্রতিদিনের বার্তা-এর উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল বারী দুলালের ওপর সন্ত্রাসীও বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জেরে এই হামলার শিকার হন তিনি। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ওপর এমন ন্যাক্কারজনক আঘাতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে)।
সংগঠনটি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে সত্যের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে সাংবাদিক সমাজ রাজপথে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। স্থানীয় সূত্র ও আরপিইউজে সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রংপুরের গঙ্গাচড়া এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে পরিবেশ ও স্থানীয় জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল।
জনস্বার্থে সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলাল এই অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একাধিক তথ্যবহুল ও অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করেন। সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই বালু খেকো চক্রটি তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত ২ অক্টোবর সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে।
স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গংগাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেছে।।সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলালের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে রংপুরের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। ঘটনার পরপরই রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে)-এর সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক এবং সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে)-এর সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান বলেন, “সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলালের ওপর এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। সত্য প্রকাশ করলেই যদি সাংবাদিকদের ওপর এভাবে হামলা চালানো হয়, তবে সমাজে আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
” তিনি আরও বলেন, তথ্য অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যারা সাংবাদিকদের ওপর হাত তুলছে, তারা সমাজের শত্রু। যারা হামলা চালিয়েছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। আরপিইউজে-এর পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং তাদের সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যে মূল অপরাধ—অর্থাৎ অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত সিন্ডিকেট ও তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক ও দৈনিক কালবেলার রংপুর ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব জানানো হয়, সাংবাদিক সমাজ সবসময় দেশ ও জনগণের পক্ষে কথা বলে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরার কারণে সাংবাদিকদের জীবন বিপন্ন হতে দেওয়া যায় না। বিবৃতিতে আরপিইউজে নেতৃবৃন্দ স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা প্রশাসনকে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই। সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলালের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনকে অতি দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অন্যথায়, রংপুরের সমগ্র সাংবাদিক সমাজ নিজেদের পেশাগত সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজপথে নামতে এবং কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।” এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, আব্দুল বারী দুলালের ওপর হামলার ঘটনায় গঙ্গাচড়া থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে সংহতি প্রকাশ করেছেন।


