বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজঃ
মৌলভীবাজারের চা-বাগানগুলোতে বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এবার কিছুটা কমার আশা করছেন শ্রমিকরা। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে রেইনকোট হাতে পেয়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের চা শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ১০ জন চা শ্রমিকের হাতে রেইনকোট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাজের নানা সমস্যা ও দুর্ভোগের কথাও শোনেন তিনি।
চা-বাগানে বছরের বেশিরভাগ সময়ই খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে হয় শ্রমিকদের। কচি চা-পাতা সংগ্রহের সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে অনেক ক্ষেত্রেই কাজ বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে বৃষ্টিতে ভিজেই কাজ চালিয়ে যেতে হয়। এতে কাপড় ভিজে যাওয়া, ঠাণ্ডা লাগাসহ নানা সমস্যায় পড়েন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের ভাষ্য, রেইনকোট পাওয়ায় বর্ষাকালে তাদের কাজের কষ্ট অনেকটাই কমবে। বৃষ্টির মধ্যেও শরীর ও পোশাক তুলনামূলকভাবে শুকনো রেখে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন তারা।
বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য এই সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মাথায় চা-পাতা সংগ্রহের ঝুড়ি, হাতে কাঁচি নিয়ে কাজ করার সময় বৃষ্টির পানি সামলানো তাদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করে।
শুধু মৌলভীবাজার নয়, উদ্যোগটির আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ২০ হাজার চা শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণের কথা রয়েছে।
মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, চা শ্রমিকদের জীবনযাপন ও তাদের প্রয়োজনের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর নজরে রয়েছে। রেইনকোট বিতরণের উদ্যোগকে তিনি শ্রমিকদের প্রতি সরকারের গুরুত্ব দেওয়ার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ থেকে ১০ জন চা শ্রমিককে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কাজের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানতে চান।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি রেইনকোট সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা পরেশ কালিন্দি বলেন, চা শ্রমিকদের সমস্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা রয়েছে। তাদের কষ্টের কথা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

রেইনকোট পাওয়া শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট চা-বাগানের শান্তি উড়িয়া, মাকড়িছড়া চা-বাগানের মুন্নী কুর্মি, ভাড়াউড়া চা-বাগানের জ্যোৎস্না আক্তার, রাজঘাট চা-বাগানের রিনা তাঁতী ও শশিকা ব্যানার্জি এবং মাজদিহি চা-বাগানের সন্তুকী রায়। কমলগঞ্জের ফুলবাড়ী, মাধবপুর, উত্তর আলীনগর ও পাত্রখোলা চা-বাগানের আরও চার শ্রমিকও রেইনকোট পেয়েছেন।
চা-বাগানের সবুজের মাঝে বৃষ্টি নামা এখানে নিত্যদিনের ঘটনা। সেই বৃষ্টিতে এতদিন ভিজে ভিজেই কাজ করতে হয়েছে শ্রমিকদের। এবার রেইনকোট তাদের সেই চেনা বাস্তবতায় সামান্য হলেও স্বস্তি এনে দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা চা শ্রমিকদের।


