বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা পরিশোধে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বরের কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে চালু হচ্ছে নতুন ব্যবস্থা। আজ মঙ্গলবার থেকে অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস) কার্যকর করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
নতুন এ ব্যবস্থায় সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বর টাকা পাঠানোর আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে। ফলে ভুল বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসাব নম্বরের কারণে টাকা ফেরত আসার ঘটনা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে এ যাচাই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথমে দেওয়া হিসাব নম্বরটি সঠিক ও সচল কি না যাচাই করা হবে। এরপর হিসাবধারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে ব্যাংক হিসাবের তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।
এতদিন সঞ্চয়পত্র কেনার সময় গ্রাহক যে ব্যাংক হিসাব নম্বর দিতেন, সেটিই সরাসরি সিস্টেমে যুক্ত করা হতো। কোনো কারণে হিসাব নম্বরে ভুল থাকলে মুনাফা বা মূল অর্থ পাঠানোর সময় ইএফটি ফেরত আসত। পরে তথ্য সংশোধন করে পুনরায় অর্থ পাঠাতে হতো। এতে গ্রাহকের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকেও বাড়তি কাজ করতে হতো।
এভিএস চালুর ফলে এখন অর্থ পাঠানোর আগেই ভুল হিসাব শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ভুল হিসাবের কারণে একজন গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ অন্য কারও হিসাবে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
শুধু নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় নয়, পরবর্তী সময়ে ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষেত্রেও এভিএস ব্যবহার করা হবে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ন্যাশনাল সেভিংস স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এনএসসি) নিবন্ধিত একক গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে গ্রাহকদের মুনাফা ও মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ হাজার নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়।
এর আগে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু থাকলেও এবার ব্যাংক হিসাব যাচাই যুক্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই ব্যবস্থা সঞ্চয়পত্রের লেনদেনে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি সেবাকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অর্থ বিভাগের প্রত্যাশা, এভিএস চালুর ফলে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে দ্রুত ও সঠিকভাবে পৌঁছানো সহজ হবে। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনায় কমবে প্রশাসনিক জটিলতা ও অতিরিক্ত কাজের চাপ।


