বরেন্দ্রকন্ঠো নিউজ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী এখনো যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ফল প্রকাশের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
এ পরিস্থিতিতে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা।
প্রার্থীরা জানান, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা মেডিক্যাল চেকআপ, ডোপ টেস্টসহ সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু এরপরও যোগদানের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা মানসিক চাপের পাশাপাশি আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকে আগের চাকরি ছেড়ে এখন বেকার হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকের বয়সসীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় অন্য কোনো সরকারি চাকরির সুযোগও আর নেই। এর মধ্যে গোপনে ভেরিফিকেশনসহ বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোয় বাড়ছে উদ্বেগ।
স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা উল্লেখ করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এ ধরনের বিলম্ব শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনে নয়, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন না হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক ছাড়া কার্যকর ও ফলপ্রসূ শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই মানবিক ও জরুরি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে সহকারী শিক্ষক (২০২৫) ব্যাচের সব সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর দ্রুত যোগদানের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকার পরিবর্তন, পূর্ববর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছু অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণে বিষয়টি স্থবির হয়ে আছে। ফলে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
তিনি বলেন, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় কর্মকর্তাদের মধ্যেও এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় গত ৯ জানুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে স্বাস্থ্য সনদ ও ডোপ টেস্ট রিপোর্ট জমা এবং মার্চের শুরুতে কাগজপত্র যাচাই সম্পন্ন হলেও এখনো চূড়ান্ত নিয়োগপত্র ইস্যু না হওয়ায় অনিশ্চয়তায় রয়েছেন প্রার্থীরা।


