বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার কাজ কতদূর এগিয়েছে এবং বইয়ের মান ঠিক আছে কি না, তা সরেজমিনে দেখতে মধ্যরাতে রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর শুরু হয় তার এই আকস্মিক পরিদর্শন। রাত ১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে বিষয়টি জানানো হয়।
ছাপাখানা পরিদর্শনের সময় শিক্ষামন্ত্রী বইয়ের কাগজ, ছাপার মান ও বাঁধাইয়ের কাজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। প্রস্তুত করা বইয়ের বান্ডিল থেকে নমুনা কপি নিয়ে তিনি বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত মান বজায় রেখে বই মুদ্রণের নির্দেশনা দেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার কাজ বর্তমানে পুরোদমে চলছে। শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই তুলে দিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এবার প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি বই ছাপানো হচ্ছে। পুরো কার্যক্রমে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা।
এনসিটিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখের বেশি বই ছাপানো হবে। ইবতেদায়ি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য তৈরি হচ্ছে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ কপি বই। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য ছাপানো হবে প্রায় ১৮ কোটি বই।
এর মধ্যে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্যই থাকছে ৫ কোটি ৫৬ লাখের বেশি বই। পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ হাজার ৪ কপি ব্রেইল বইও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নতুন শিক্ষাবর্ষের বইয়ে কয়েকটি নতুন বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ে নতুন বই থাকছে।
এনসিটিবি বলছে, নতুন ও সংশোধিত বইগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর রাতের এই পরিদর্শনে বইয়ের গুণগত মান ও মুদ্রণ কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।


