বিনোদন ডেস্ক
দেশীয় সংগীতের বিশ্বখ্যাত শিল্পী, গীতিকার ও অভিনেত্রী ডলি পার্টন আর নেই। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলে ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডলির প্রচারকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যানসারের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি লড়াইয়ের পর ন্যাশভিলের ভ্যান্ডারবিল্ট-ইনগ্রাম ক্যানসার সেন্টারে প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে মারা যান তিনি।
প্রায় সাত দশকের ক্যারিয়ারে ডলি পার্টন সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়, ব্যবসা ও সমাজসেবায়ও অসামান্য সাফল্য অর্জন করেন। ‘জোলিন’, ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’, ‘৯ টু ৫’ ও ‘কোট অব মেনি কালার্স’-এর মতো গান তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়। তার লেখা ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’ পরে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে নতুন করে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পায়।
১৯৪৬ সালে টেনেসির দরিদ্র এক পরিবারে জন্ম নেওয়া ডলি ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি গ্র্যান্ড ওলে অপ্রিতে গান পরিবেশন করেন। পরবর্তী সময়ে গায়ক পোর্টার ওয়াগনারের সঙ্গে কাজ করে পরিচিতি পান এবং পরে একক ক্যারিয়ারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

সংগীতের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন ডলি। ‘৯ টু ৫’ ও ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক উদ্যোগেও সফল হন। ১৯৮৬ সালে টেনেসিতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ডলিউড’ থিম পার্ক, যা পরবর্তীতে ওই অঞ্চলের অন্যতম বড় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়।
তবে ডলির পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি ছিল তার মানবিক কর্মকাণ্ড। শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ১৯৯৫ সালে তিনি ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শিশুদের জন্য কোটি কোটি বই বিতরণ করা হয়েছে। চিকিৎসা গবেষণা ও কোভিড-১৯ টিকা উন্নয়নেও তিনি উল্লেখযোগ্য অর্থ সহায়তা করেছিলেন।
ক্যারিয়ারে ১১টি গ্র্যামি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন ডলি পার্টন। তার স্বতন্ত্র কণ্ঠ, ঝলমলে পোশাক, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব ও রসবোধ তাকে কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
ডলির স্বামী কার্ল ডিন ২০২৫ সালের মার্চে মারা যান। প্রায় ৫৯ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর মৃত্যু ডলির ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
ডলি পার্টনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হলো আমেরিকান সংগীতের এক বর্ণিল অধ্যায়। গান, অভিনয় ও মানবসেবায় তার দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রভাব বহু প্রজন্ম ধরে বিশ্বজুড়ে স্মরণ করা হবে। তার মৃত্যুর পর সংগীতাঙ্গন ও ভক্তদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।


