যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারও হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) ইসরায়েলের এই হামলায় অন্তত ১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।
দক্ষিণ রাফায় পাল্টাপাল্টি গোলাগুলিতে এক ইসরায়েলি সেনা আহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজায় শক্তিশালী হামলার নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা।
এদিকে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডস। তারা জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে নিখোঁজ এক জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। হামাস সতর্ক করে বলেছে, বড়সড় উসকানি এলে গাজায় মৃতদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং বাকি ১৩ জিম্মির মরদেহ উদ্ধারে বিলম্ব ঘটবে।
চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, উত্তর গাজার সাবরা পাড়ায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪ জন নিহত হন। দক্ষিণ খান ইউনিসে আরেক হামলায় প্রাণ হারান ৫ জন। গাজার আল-শিফা হাসপাতালের পাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাজার আকাশজুড়ে ইসরায়েলি ড্রোন এবং যুদ্ধবিমান উড়ছে, হামলাগুলোর শব্দে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ ঘরে অবস্থান করছে। তারা এই হামলাকে “বিশাল ও ভয়াবহ” বলে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও যুদ্ধবিরতি বহাল রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স। তিনি বলেন,
“এর মানে এই নয় যে ছোটখাটো সংঘর্ষ হবে না। আমরা জানি গাজায় হামাস বা অন্য কেউ একজন ইসরায়েলি সৈন্যের ওপর হামলা করেছে। ইসরায়েল জবাব দেবে—এটাই স্বাভাবিক, তবে আমি মনে করি শান্তি টিকে থাকবে।”
অন্যদিকে, রাফাহতে সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে হামাস। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলাকে যুদ্ধবিরতির “স্পষ্ট লঙ্ঘন” হিসেবে উল্লেখ করে আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানিয়েছে।


