আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও কঠোর হয়েছে। নতুন ফেডারেল তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু জুলাই মাসেই দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগের কোনো অপরাধে দণ্ড কিংবা বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা ছিল না।
জুন মাসেও আইসিই ৪৩ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে সংস্থাটির অভিযানের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতায় থাকা ব্যক্তিরাও এখন ব্যাপকভাবে আটকের মুখে পড়ছেন।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের তথ্য পর্যালোচনা অনুযায়ী, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আগে সহিংস অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তির সংখ্যা ৪ শতাংশেরও কম। অর্থাৎ আইসিইর সাম্প্রতিক অভিযানে গুরুতর অপরাধের পূর্ব রেকর্ড নেই—এমন ব্যক্তিদের সংখ্যাই তুলনামূলকভাবে বেশি।
অভিবাসন কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিযানও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে কারাগার থেকে অভিবাসীদের হেফাজতে নেওয়া ছিল বড় একটি পদ্ধতি। এখন কর্মস্থল, বাসাবাড়ি কিংবা সড়কে গাড়ি থামিয়ে সরাসরি গ্রেপ্তারের ঘটনাও বাড়ছে।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের পর্যালোচনা বলছে, আইসিইর প্রায় ৬৩ শতাংশ গ্রেপ্তার এখন এ ধরনের সরাসরি অভিযান থেকে হচ্ছে।
এদিকে অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের সম্পৃক্ততাও বেড়েছে। ২৮৭(জি) কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহায়তার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাসনসংক্রান্ত তথ্যভান্ডারের হিসাবে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আইসিইর হেফাজতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা মোট গ্রেপ্তারের প্রায় ১৪ শতাংশ।
অভিবাসন অবস্থার প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিরাও এখন নতুন করে ঝুঁকিতে পড়ছেন। যেমন—কেউ ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়ায় থাকলেও তার আগের বৈধ অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তাকে আটক করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের প্রশাসনগুলোর সময়ে এ ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের সাধারণত গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে হতো না।
ট্রাম্প প্রশাসন আইসিইর আটক ও নির্বাসন কার্যক্রম সম্প্রসারণে বিপুল অর্থও বরাদ্দ করেছে। কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে নির্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ৯৯ হাজার অভিবাসীকে আটক রাখার সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
নির্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উড়োজাহাজ চলাচলও বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে আইসিইর আটক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের জন্য ১ হাজার ৩৬৩টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। অন্তত ২০২০ সালের পর এক মাসে এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এ ছাড়া একই মাসে অন্তত ৩২৯টি নির্বাসন ফ্লাইট ৩৭টি দেশে পরিচালিত হয়েছে।
তবে ব্যাপক হারে গ্রেপ্তার ও দ্রুত নির্বাসনের এই নীতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসন অধিকারকর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, অপরাধের রেকর্ড না থাকা ব্যক্তিদেরও দ্রুত আটক ও নির্বাসনের আওতায় আনা হলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তির আইনি অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো অভিবাসীদের নিরাপত্তা এবং পরে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে।


