আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দক্ষিণ আমেরিকার চিলির আটাকামা মরুভূমিতে দেখা দিয়েছে বিরল তুষারপাত। বিশ্বের অন্যতম শুষ্ক এই মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা এখন সাদা তুষারে ঢেকে গেছে। আগস্টজুড়ে কয়েক দফা শীতকালীন ঝড়ের পর এমন দৃশ্য দেখা যায়।
মরুভূমির এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরা পড়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইটের ছবিতে। ল্যান্ডস্যাট ৮, ৯ এবং টেরা স্যাটেলাইটের ছবিতে আটাকামার সাধারণ বাদামি ও কমলা রঙের ভূমি বরফে ঢেকে থাকতে দেখা গেছে।
নাসার ছবিতে দেখা যায়, তুষারের বিস্তৃতি আন্দিজ পর্বতমালা পেরিয়ে মরুভূমির শুষ্ক কেন্দ্রীয় অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছেছে। এমনকি এর প্রভাব প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলের কাছাকাছি এলাকাতেও দেখা গেছে।
অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে মরুভূমির চাজনান্তর মালভূমিতে থাকা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেডিও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ‘আলমা টেলিস্কোপ’-এর কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। ভারী তুষারপাত ও তীব্র ঠান্ডার কারণে টেলিস্কোপের বড় অ্যান্টেনাগুলো নিরাপদ অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
আবহাওয়া ও জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, একটি বিচ্ছিন্ন নিম্নচাপের সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের অতিরিক্ত আর্দ্রতা মিলিত হওয়ার কারণে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তুষারপাতের পাশাপাশি আটাকামার বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টিও হয়েছে।
উত্তর চিলির উপকূলীয় শহর তালতালে মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই পরিমাণ বৃষ্টি ওই এলাকার স্বাভাবিক বার্ষিক গড়ের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি।
এর আগে ২০১১ ও ২০২৫ সালেও আটাকামা মরুভূমিতে তুষারপাতের ঘটনা ঘটেছিল। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৬ সালের এবারের তুষারপাতের বিস্তৃতি ও ব্যাপকতা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক অঞ্চলগুলোর একটি আটাকামায় এমন ব্যাপক তুষারপাত তাই শুধু প্রকৃতির বিরল দৃশ্যই নয়, জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়েও নতুন করে গবেষণার সুযোগ তৈরি করেছে।


