জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে চলমান বিক্ষোভ অষ্টম দিনে গড়িয়েছে। দেশটির ৭৮টি শহরের অন্তত ২২২টি স্থানে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫১ জন এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় এক হাজার মানুষ। খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
ইরানের মানবাধিকার কর্মীদের প্রতিষ্ঠিত প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ২৬টি প্রদেশে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অন্তত ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ হয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন ও সমাবেশ দমনের চেষ্টা সত্ত্বেও আন্দোলন থামেনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্যও রয়েছেন। বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। হতাহতের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া গুলিতে আহত বা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিক রয়েছেন, যাদের বয়স ১৬ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে কমপক্ষে ৯৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষার্থী, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরও রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে ইয়াজদ, ইসফাহান, কেরমানশাহ, শিরাজ ও বেহবাহান শহরে। আটক অনেককে স্থানীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, বাজারের অস্থিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের অভাবের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে এই বিক্ষোভ শুরু হয়।


