ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ও জামায়াতের প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েমকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান জয়পুরহাট সিভিল জজ আদালতের বিচারক মো. (আ স ম) আসাদুজ্জামান নূর তাদেরকে পৃথকভাবে এ নোটিশ দেন।
প্রচার শুরুর আগেই দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ফেসবুকে এবং বিভিন্ন যানবাহনে স্টিকার ও পোস্টার লাগানোর অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের প্রার্থী আ স ম সায়েমের বিরুদ্ধে এবং সম্প্রতি মিলাদ মাহফিলে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম নির্বাচনী প্রচার চালায় বলে বিচারিক কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। পৃথক অভিযোগে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে তাদেত বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ১৮ জানুয়ারি নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে হাজির হয়ে তাদেরকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা জানাতে বলা হয়েছে।
জামায়াতের প্রার্থীকে দেওয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আ স ম সায়েম নওগাঁ-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আ স ম সায়েমের ছবি এবং ‘দাড়ি পাল্লায় ভোট দিন’ লেখা লোগো সংবলিত ছবি তৈরি করে এ্যাড, আ স ম সায়েম নামের ফেসবুক পেজ থেকে গত ১০ ও ৩ জানুয়ারি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি নওগাঁ-৫ সংসদীয় আসন পরিদর্শনের সময় নওগাঁ সদর পৌরসভার বিভিন্ন স্থানসহ বিভিন্ন যানবাহনের (অটো, রিক্সা, সিএনজি) পিছনে আপনার নাম ও ছবি সংবলিত স্টিকার এবং পোষ্টার লাগানোর মাধ্যমে আ স ম সায়েম নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন মর্মেও কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাঁর এই কার্যক্রম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর ১৮ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আ স ম সায়েমের কাছ থেকে লিখিত জবাব চেয়ে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে আপনার ( আ স ম সায়েম) বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে কেনো প্রতিবেদন পাঠানো হবে না কিংবা অপরাধ আমলে নিয়ে কেনো বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে না- সে বিষয়ে আগামী ১৮ জানুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে জেলা ও দায়রা জজ আদালত, নওগাঁ ভবনে অবস্থিত সিভিল জজ আদালত, বদলগাছী কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী আ স ম সায়েম বলেন, ‘নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছ থেকে একটি নোটিশ পেয়েছি। আমার যেসব পোস্টার দেখতে পেয়েছেন সেগুলো তফসিল ঘোষণার আগে লাগানো ছিল। তফসিল ঘোষণার পর অনেক ব্যানার-পোস্টার সরিয়েছি। তারপরও কিছু পোস্টার হয়তো থেকে গেছে। এছাড়া আমার নামে ফেসবুক আইডি অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ফেসবুকে প্রচারণার করে থাকতে পারে। যে সব অভিযোগ উঠেছে সে ব্যাপারে ১৮ তারিখে সশরীর হাজির হয়ে আদালতের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দেব।’
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলামকে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি এক মিলাদ মাহফিলে জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। জাহিদুল ইসলামের উপস্থিতে এক বক্তা বিএনপির পক্ষে ভোট চায়। এই কার্যক্রম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর ১৮ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে জাহিদুলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে কেনো প্রতিবেদন পাঠানো হবে না কিংবা অপরাধ আমলে নিয়ে কেনো বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে না- সে বিষয়ে আগামী ১৮ জানুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে জেলা ও দায়রা জজ আদালত, নওগাঁ ভবনে অবস্থিত সিভিল জজ আদালত, বদলগাছী কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়।
এ বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় নওগাঁ পৌরসভায় এক দোয়া ও মিলাত মাহফিলে আমাদের দলের এক নেতা বিএনপির পক্ষে ভোট চেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরাসরি আমার বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়নি। যে অভিযোগ উঠেছে সে ব্যাপারে ১৮ তারিখে সশরীর হাজির হয়ে আদালতের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দেব।’


