আগামী জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ।
প্রধান উপদেষ্টা উভয় দলকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করার স্বার্থে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।” তিনি বলেন, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে জামায়াত ও এনসিপিসহ সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জামায়াত নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি যোগ করেন, “আমাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো সন্দেহের সুযোগ নেই। নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে; সামনে আরও উদ্যোগ দেখা যাবে।”
বৈঠকে এনসিপির চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামন্তা শারমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।
এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা নির্বাচনের আগে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের রোডম্যাপ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা চাই। এ বিষয়ে সরকারকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।”
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা এনসিপিকে জুলাই সনদে স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই সনদ জাতির জন্য এক মহামূল্যবান সম্পদ, সবার অংশগ্রহণ এতে গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে।
পরে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহেরের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা‘ছুম ও রফিকুল ইসলাম খান।
জামায়াত নেতারা নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের ওপর গণভোটের দাবি জানান। ডা. তাহের বলেন, “জুলাই সনদে এমন অনেক বিষয় আছে যা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট হলে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া জটিল ও দীর্ঘায়িত হতে পারে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
শেষে প্রধান উপদেষ্টা জানান, প্রশাসনে যেকোনো পরিবর্তন তিনি নিজেই তদারকি করবেন এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।


