বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ জেলার বিসিক শিল্প পার্কে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান। কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বেলা ৩টায় সমাবেশ শুরু হয়। বগুড়া থেকে সড়কপথে সিরাজগঞ্জ পৌঁছে সাড়ে তিনটার দিকে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন তারেক রহমান। এ সময় মঞ্চে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
তারেক রহমান বলেন, “গত ১৬–১৭ বছর ধরে যারা প্রতিবাদ করেছে, সেই প্রতিবাদ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের মানুষের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তার বিরুদ্ধেই এই সংগ্রাম। এই অধিকার যদি ফিরিয়ে আনতে হয়, তাহলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনাদের সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। যে স্বৈরাচার আপনাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে ধানের শীষে সিল মেরে জবাব দিতে পারেন।”
তিনি বলেন, “আমরা যারা বিএনপি করি, আমরা সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। কে কোন ধর্মের, কোন জাতের—তা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। আমাদের কাছে মুখ্য হলো—সে একজন বাংলাদেশের নাগরিক।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবেই মূল্যায়ন করতে চাই। জনগণের শাসন কায়েম করতে পারলে, জনগণের সরকার ও একটি কল্যাণকর সরকার প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব হবে।”
সমাবেশে সিরাজগঞ্জ ও পাবনার ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট চান তারেক রহমান। এ সময় তিনি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, এম আকবর আলী, এম এ মুহিত, আইনুল হক, সেলিম রেজা, হাবিবুর রহমান হাবিব, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাসান জাফির তুহিন ও ভিপি সামসুল ইসলামের নাম উল্লেখ করেন।
দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ এই অঞ্চলে অনেক কাজ করার আছে। এসব কাজ করা গেলে এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। আমাদের নেতাকর্মীসহ বাংলাদেশের মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে, স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এখন সময় দেশ গড়ার। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আছেন তো আপনারা দেশ গঠনে?” মঞ্চের সামনে থেকে তখন ‘ধানের শীষ, ধানের শীষ’ স্লোগানে মুখরিত হয় জনসভা। উত্তরে তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ সারাদেশে নতুন শিল্প পার্ক স্থাপন করে বেকার সমস্যা সমাধান, কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা, তাঁত শিল্প পুনরুজ্জীবিত করে আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি এবং ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আগামী নির্বাচনে বিএনপি জনগণের ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে নারী ও কৃষকদের সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালুর কথাও জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানসহ সিরাজগঞ্জ ও পাবনার প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।
উত্তরাঞ্চলে দুই দিনের প্রচারাভিযানে তারেক রহমান রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া ও রংপুরে চারটি নির্বাচনী সমাবেশ করেন। সফরের শেষ দিনে সিরাজগঞ্জের সমাবেশ শেষে তিনি টাঙ্গাইলে আরেকটি নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।


