দিনাজপুর সংবাদদাতা
১২ ফেব্রুয়ারির ২০২৬ নির্বাচনের পর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ৮৭টি দিন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির সীমান্ত এখনো নিরাপদ নয়। প্রতিদিন সীমান্তজুড়ে যেন রচিত হচ্ছে আতঙ্ক, কান্না আর রক্তের নতুন ইতিহাস। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও আজ সীমান্তবর্তী মানুষ বেঁচে আছেন চরম অনিশ্চয়তা আর মৃত্যুভয়ের মধ্যে।
গত ৮৭ দিনের ভয়াবহ সীমান্ত চিত্র:
রক্তাক্ত সীমান্ত:
বিএসএফ-এর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮-১০ জন বাংলাদেশি। থেমে নেই মৃত্যুর মিছিল—গত রাতেও সীমান্তে ঝরে গেছে আরও দুইটি তাজা প্রাণ। স্বজন হারানোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে জনপদ।
নির্যাতনের বিভীষিকা:
১৫ জনেরও বেশি বাংলাদেশি আজ গুলিবিদ্ধ, পঙ্গুত্ববরণ কিংবা নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার। কারও শরীরে গুলির ক্ষত, কারও মনে আজীবনের আতঙ্ক।
নিখোঁজ ও অপহরণ:
৪ থেকে ৬ জন নাগরিককে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের পরিবার আজও পথ চেয়ে আছে—কেউ ফিরে আসবে এই আশায়, বুকভরা কান্না আর অনিশ্চয়তা নিয়ে।
পুশ-ইনের আতঙ্ক:
১৫০ জনেরও বেশি মানুষকে জোরপূর্বক পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম মানবিক সংকট।
আমরা আর কোনো ‘ফেলানী’র ঝুলন্ত লাশ দেখতে চাই না। আমরা চাই না কোনো মায়ের বুক খালি হোক, কোনো বাবার কাঁধে উঠুক সন্তানের নিথর দেহ। সীমান্তে আর একটি প্রাণও যেন অকারণে ঝরে না পড়ে—এটাই আজ সমগ্র জাতির আকুতি।
এই ক্রান্তিকালে দেশের মানুষ এমন একজন আপসহীন, সাহসী ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব দেখতে চায়, যিনি সীমান্তের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
জনগণের প্রাণের দাবি:
দেশের আইন-শৃঙ্খলা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনগণের জানমালের সুরক্ষায় আমরা যোগ্য, অভিজ্ঞ ও কঠোর নেতৃত্বের প্রতিফলন দেখতে চাই। বিশেষ করে, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব লুৎফুজ্জামান বাবর-এর মতো দৃঢ়চেতা ও কঠোর ব্যক্তিত্বকে বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চায় দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর অভিজ্ঞতা, সাহসী সিদ্ধান্ত ও আপসহীন মনোভাব সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মাননীয় সরকার প্রধানের কাছে আমাদের বিনীত কিন্তু দৃঢ় আবেদন—
সীমান্তের এই রক্তপাত বন্ধ করুন। দেশের মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন ও অপহরণের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিন।
বাংলাদেশের মানুষ শান্তি চায়, নিরাপত্তা চায়, মর্যাদার সাথে বাঁচতে চায়।


