বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়।
অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যসূচিতে রয়েছে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোকপ্রস্তাব, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর, জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ, বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব এবং আইন প্রণয়ন কার্যাবলি।
এর আগে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, এবারের অধিবেশন ৫, ৭ অথবা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হবে।
তিনি জানান, তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে।
বুধবার সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ হুইপ আরও জানান, এবারের অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম এবং মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল রয়েছে।
সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তারা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন। এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ১৫ জুলাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শেষ হয়। ওই অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত বর্তমান বিএনপি সরকারের এটিই ছিল প্রথম বাজেট।
গত ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন। ২৬ কার্যদিবস অধিবেশন চলার পর ১৫ জুলাই তা শেষ হয়।
বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা ১৪ কার্যদিবসে মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট স্থায়ী হয়। এতে ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। এ সময় ১০টি সরকারি বিল পাস হয়।
এ ছাড়া কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী ৭১৫টি নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৪টি গৃহীত হয় এবং ২২টি নোটিশের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ৭১(ক) বিধি অনুযায়ী ১২৫টি দুই মিনিটের নোটিশও আলোচিত হয়। ১৩১ বিধি অনুযায়ী চারটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আলোচনা ও নিষ্পত্তি করা হয়।
দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য ২৭৮টি প্রশ্ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য জমা পড়া ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্নের মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৪টির উত্তর দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিসহ মোট ১১টি কমিটি গঠন এবং কার্য উপদেষ্টা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।


