বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
ভূমিকম্প মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস সবসময় পাওয়া যায় না। তাই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগে থেকেই উদ্ধার ও মানবিক সহায়তার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে আয়োজিত ভূমিকম্পবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবক গঠনের লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (ToT)’ শীর্ষক এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশিক্ষক তৈরি করা হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমিকম্প মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ভূমিকম্প হঠাৎ আঘাত হেনে অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। বাংলাদেশও ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে দুর্যোগ আঘাত হানার পর প্রস্তুতি নেওয়ার বদলে আগে থেকেই উদ্ধারকারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষিত করে রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয় দেশের মানুষকে। এসব দুর্যোগে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন মানুষ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আরও দক্ষ ও কার্যকরভাবে কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করেন। প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরা সুযোগ পেলেই দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
কর্মকর্তারা জানান, ভূমিকম্পের মতো আকস্মিক দুর্যোগে দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতেই স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


