বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার পাশাপাশি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাতেও বড় পরিবর্তন আসছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও মোবাইল ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নতুন ভাতা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। তবে কমছে বাংলা নববর্ষের ভাতা।
নতুন কাঠামোয় মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মূল বেতন ও নিট পেনশন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত ১১টি বড় পরিবর্তন হলো—
১. বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ছে
ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ বাড়িভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় গ্রেডভেদে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া পাওয়ার কথা রয়েছে।
২. বয়স অনুযায়ী বাড়বে চিকিৎসা ভাতা
৫০ বছর পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার টাকা, ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০ বছরের বেশি থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
৩. নিম্ন গ্রেডে বেশি হারে বেতন বৃদ্ধি
গ্রেড-৬ ও তার নিচের গ্রেডে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ৫ শতাংশ, গ্রেড-৩ ও ৪-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
৪. সব গ্রেডে মোবাইল ভাতা
গ্রেড-৫ ও তার ঊর্ধ্বে ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-৬ ও নিচের গ্রেডে ১৫০ টাকা করে মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৫. যাতায়াত ও টিফিন ভাতা বাড়ছে
যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
৬. প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য নতুন ভাতা
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে নতুন ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ দুই সন্তান এ সুবিধা পাবে।
৭. কমছে বাংলা নববর্ষের ভাতা
বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
৮. ঝুঁকি ও বিশেষ ভাতা বাড়ছে
প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা মূল বেতনের ১০ শতাংশ নির্ধারণের পাশাপাশি ঝুঁকি ও বিশেষ ভাতা ক্ষেত্রবিশেষে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে শিক্ষা সহায়ক, কার্যভার, আপ্যায়ন ও উৎসব ভাতা আগের হারেই থাকবে।
৯. পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় বিশেষ ভাতা
পাহাড়ি এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পার্বত্য জেলা সদর ও সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার এবং অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় ৫ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত এ ভাতা পাওয়ার কথা রয়েছে। হাওড়, দ্বীপ ও চর এলাকাতেও ২০ শতাংশ ভাতা বহাল থাকবে।
১০. পেনশন ও গ্র্যাচুইটিতে পরিবর্তন
‘এক গ্রেড এক পেনশন’ পদ্ধতি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নিট পেনশনের নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
১১. সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ভাতা বাড়ছে
সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রতিরক্ষা ভাতা, কিট ভাতা, ডেঞ্জার মানি, দোভাষী ভাতা ও শিক্ষকতা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অধিকাংশ ভাতার বিদ্যমান পরিমাণের ওপর ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয় ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি পেনশন সুবিধাতেও নতুন কাঠামোর প্রভাব পড়বে।


