বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজঃ
নদীভাঙন প্রতিরোধ, নদীর তীর সংরক্ষণ ও টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হচ্ছে। দুই দেশের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পানিসম্পদ খাতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডস।
রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল। বৈঠকে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। তিনি নেদারল্যান্ডসকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবেও উল্লেখ করেন।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহযোগিতার লক্ষ্যে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল।
নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস—দুই দেশই ব-দ্বীপভিত্তিক ভূপ্রকৃতির দেশ। ফলে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদীর তীর সংরক্ষণ এবং নদীভাঙন মোকাবিলায় নেদারল্যান্ডসের সরকার কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীভাঙন, বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সহায়ক হতে পারে।
বৈঠকে পানিসম্পদ সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন এবং অতিরিক্ত সচিব মহা. এনামূল হক উপস্থিত ছিলেন।


